|

কিথ দাবেঙ্গা

১৭ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও কিঞ্চিৎ শক্তিধর হলেও মাঠে বেশ দৌঁড়ুতে পারেন। বুলাওয়েভিত্তিক বাইনেস জুনিয়র ও মিল্টন হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। লীগের খেলায় সুন্দর ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে সিএফএক্স একাডেমিতে অন্তর্ভুক্ত হবার সুযোগ পান।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, ওয়েস্টার্নস ও জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট একাডেমির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মাতাবেলেল্যান্ডের কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে বোলিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন। স্পিন বলগুলো আলতোভাবে ছুঁড়লেও বেশ নিখুঁতধর্মী ছিল। মাঝে-মধ্যেই বিরাটভাবে সফল হতেন।

২০০৭ সালে লোগান কাপের খেলায় মাত্র এক রান খরচ করে সাত-উইকেট লাভ করেছিলেন। অপরদিকে ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেকাংশেই শিক্ষানবিশ ও সতর্ক দৃষ্টিতে অগ্রসর হতেন। তবে, মেজাজের উপর নির্ভর করে দ্রুতলয়ে রান তুলতেও তৎপরতা দেখিয়েছেন। সচরাচর মাঝারিসারি থেকে শুরু করে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। তাসত্ত্বেও, ২০০৯-১০ মৌসুমের শেষদিকে লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমেছেন। এ পর্যায়ে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। জানুয়ারি, ২০১০ সালে মিড-ওয়েস্ট রাইনোসের বিপক্ষে ১৫৮ রানের দূর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন।

আমুদে ও সাদাসিদে প্রকৃতির হলেও খেলায় তিনি বেশ পরিশ্রমী ছিলেন। ফলশ্রুতিতে একাডেমির বর্ষসেরা ছাত্রের পুরস্কার লাভ করেন। মাতাবেলেল্যান্ড দলের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেলেও তেমন দর্শনীয় খেলা উপহার দিতে পারেননি। তবে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে মিডল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৬১ রান তুলে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন ও সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। আদর্শ অল-রাউন্ডার হতে তৎপরতা দেখান।

২০০৫ থেকে ২০১০ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট, ৩৭টি ওডিআই ও আটটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০০৫-০৬ মৌসুমে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ লাভ করেন। নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সফরকারীরা ইনিংস ও ৪৬ রানের ব্যবধানে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। খেলায় তিনি ১৭ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৮৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।

তবে, দূর্বলতর দলের পক্ষে খেলে নিজেও হিমশিম খান। তাসত্ত্বেও এরপর থেকে একদিনের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের পক্ষে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পেলেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। ২০০৫-০৬ মৌসুমে নিজ দেশে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩৫ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ১০ উইকেটে তাঁর দল পরাজিত হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়েছিল।

Similar Posts

  • | |

    বার্বার্টন হলিওয়েল

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৪ তারিখে ইংল্যান্ডের ড্রেটন গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। উইকেট-রক্ষণে দূর্দান্ত প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথমদিকের সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। নিজের সেরা সময়ে অস্ট্রেলীয় জ্যাক ব্ল্যাকহাম ও ইংরেজ গ্রিগর ম্যাকগ্রিগরের সমমানের ছিলেন। উইজডেনে তাঁকে ‘দক্ষিণ…

  • |

    অ্যালেক কেনেডি

    ২৪ জানুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। মিডিয়াম পেস সহযোগে ইন-সুইঙ্গার ও আউট-সুইঙ্গার – উভয় ধরনের বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অপরিসীম উদ্যম নিয়ে সারাদিনই বল করতে পারতেন। এছাড়াও, লেগ-সাইড থেকে বলকে কাট করাতে…

  • |

    আলভিরো পিটারসন

    ২৫ নভেম্বর, ১৯৮০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ট্যাক্সি চালকের সন্তান ছিলেন। শুরুতে নর্দার্ন আফ্রিকান ক্রিকেট দলে খেলেন। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।…

  • |

    সৈয়দ মুশতাক আলী

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ও পরিপাটি অবস্থায় খেলতে নামতেন। ভারতের শুরুরদিকের ক্রিকেটারদের অন্যতম ছিলেন। অনেকাংশেই তিনি বলিউডের নায়কের ন্যায় ছিলেন। ক্রিজে…

  • |

    শাহাদাত হোসেন, ১৯৮৬

    ৭ আগস্ট, ১৯৮৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘রাজিব’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে ২০১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে মধ্যাঞ্চল ও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    গুলাম গার্ড

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের সুরাতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। বড়সড় গড়নের অধিকারী হবার সুবাদে তুলনামূলকভাবে সমসাময়িকদের চেয়ে বেশ আগেভাগে হাতেখড়ি ঘটে তাঁর। ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে থাকেন। এক…