২৫ মার্চ, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘জেকিল ও হাইড’ ধরনের ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিষ্প্রাণ পিচে অন্যতম দর্শনীয় ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, সিন্ধু ও ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে সব মিলিয়ে ২৩ টেস্ট ও ১২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে মুশতাক মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ করতে সমর্থ হয়।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অফ-স্পিনারদের বলগুলো থেকে পুল-ড্রাইভে রাজত্ব কায়েম করেন। এছাড়াও, কভার ড্রাইভগুলো অনেকাংশে ওয়ালি হ্যামন্ডের অনুরূপ ছিল। তবে, বল যদি পিচে বাঁক খেতো, তাহলে তিনি ওয়ালি হ্যামন্ডের বিপরীত চিত্রে পরিণত হতেন। ব্যাট ও প্যাডের সম্মিলন ঘটাতে পারেননি তিনি। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে খেলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তার দল সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হতে পেরেছিল।
১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে সুনীল গাভাস্কারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮৩ তারিখে হায়দ্রাবাদের সিন্ধুতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে অভিষেকধারী বালবিন্দর সাঁধু’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১১৯ রানে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নিয়ে স্মরণীয় হয়ে আছেন। খেলোয়াড়দের রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেন। তবে, দল নির্বাচক হিসেবে বেশ খুঁতখুঁতে মেজাজের অধিকারী ছিলেন।
