১০ জুন, ১৯৭৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের চেস্টারফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারির কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ব্ল্যাকডগ’, ‘ডাঙ্কি’ কিংবা ‘লি ডঙ্ক’ ডাকনামে পরিচিতি ইয়ান ব্ল্যাকওয়েল ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ম্যানর সেকেন্ডারি স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ডারহাম ও সমারসেট এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০০২ থেকে ২০০৬ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ৩৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০২ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের ওডিআই দলের সদস্য হন। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের অনুপস্থিতির সুযোগে তিনি এ সুযোগ পান। ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০২ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০০৫-০৬ মৌসুমে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১ মার্চ, ২০০৬ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালাস্টেয়ার কুক ও মন্টি পানেসারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অ্যাশলে জাইলসের অনুপস্থিতির কারণে খেলার সুযোগ পান। ঐ টেস্টে ব্যাট ও বল হাতে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৮ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ম্যাথু হগার্ডের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। তবে, খেলায় তাঁর দল পরাজয়বরণ করেছিল।
২৯ মার্চ, ২০১৪ তারিখে ইএসপিএনক্রিকইনফোয় এক স্বাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন যে, ‘আমাকে কঠিন সময় অতিবাহিত করতে হয়েছে। কেননা, অধিকাংশ খেলাতেই আমি প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছি।’ এক টেস্টে অংশগ্রহণের পর দলীয় সঙ্গী ডানকান ফ্লেচারকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
মাঝে-মধ্যে চমৎকার খেললেও খেলায় ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। এছাড়াও, শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও এতে যুক্ত হয়। তৃতীয়বারের মতো দীর্ঘস্থায়ী কাঁধের সমস্যার চিকিৎসা নেন। ভেবেছিলেন হয়তোবা ২০১৩ মৌসুমের প্রথম তিন কিংবা চার মাস সুস্থ দেহে খেলতে পারবেন। ক্রমাগত কাঁধের সমস্যা ও এক বছর পূর্বেই চুক্তি স্থগিত হবার পর জানুয়ারিতে ডারহামের সাথে চুক্তি নবায়ণে ব্যর্থ হবার পর ১৫ মার্চ, ২০১৩ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মহিলাদের টি২০আইয়ের দুইটি খেলা পরিচালনা করেছেন।
