১০ ডিসেম্বর, ১৮৮৬ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লোটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ফালনেক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে, মেক্সবোরা লীগের সাথে জড়িত পাডসে সেন্ট লরেন্স ও ওয়াদ অ্যাথলেটিক ক্লাবের সাথে যুক্ত থাকেন। এ পর্যায়ে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ১৯০৭ সাল থেকে ইয়র্কশায়ারের দ্বিতীয় একাদশের সাথে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। দুই মৌসুম পর ১৯০৮ সালে প্রথমবারের মতো কাউন্টি দলটির ঠাঁই পান।
১৯০৮ থেকে ১৯১৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, প্রথম দুই বছর নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। ১৯১১ সালে কাউন্টির পক্ষে ১১২৫ রান ও ৪৭ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ওরচেস্টার মাঠে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ২১০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
পরবর্তী গ্রীষ্মেও বোলার হিসেবে একই ধারা অব্যাহত রাখেন। ১৯১৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে যে-কোন বোলারের তুলনায় সর্বাধিক ১৮১টি উইকেট লাভের কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন। সহস্রাধিক রান সংগ্রহের পাশাপাশি ইয়র্কশায়ারের পক্ষে ১৫৮ উইকেটের সন্ধান পান। ১৯১৪ সালে ব্যাট হাতে তেমন সফলতা না পেলেও দলটির পক্ষে ১৮ গড়ে ১৪১ উইকেট পেয়েছিলেন। চমৎকার মারকুটে ব্যাটসম্যান হলেও বোলার হিসেবে বেশ খ্যাতির শিখরে পৌঁছেন। স্বাভাবিকভাবে ও সহজাত ভঙ্গীমায় বলকে দ্রুততার সাথে পিচে ফেলতেন। প্রায়শঃই তাঁর অফ-ব্রেক বোলিং বেশ সমীহের পাত্রে পরিণত হতো। তবে, লক্ষ্য স্থির রেখে বলে পেস আনয়ণ করতেন।
আগস্ট, ১৯১৪ সালে উপর্যুপরী দুই খেলায় তিনি ও ড্রেক অপরিবর্তিত অবস্থায় বোলিং করেছিলেন। তাঁরা ব্রিস্টলে গ্লুচেস্টাশায়ারকে ৯৪ ও ৮৪ এবং ওয়েস্টন-সাপার-মেয়ারে সমারসেটকে ৪৪ ও ৯০ রানে গুটিয়ে দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, শেষের খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বক্ষণ বোলিং করলেও তিনি কোন উইকেটের সন্ধান পাননি ও ড্রেক ১০/৩৫ পেয়েছিলেন।
১৯১৩ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। এলএইচ টেনিসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ১৫৭ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বে ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে টিএ ওয়ার্ডকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৩৮। খেলায় তিনি ১/৪৩ ও ৪/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট পদবীধারী অবস্থায় দায়িত্ব পালনকালে সোম অভিযানের প্রথমদিনে তিনি নিহত হন। ১ জুলাই, ১৯১৬ তারিখে ফ্রান্সের লা সিগনির কাছাকাছি এলাকায় মাত্র ২৯ বছর ২০৪ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
