৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের কালভার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডার হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। সচরাচর তিনি থার্ড ম্যান কিংবা মিড-উইকেট বরাবর এলাকায় অবস্থান করতেন।
কালভার্টনে জন্মগ্রহণ করলেও ক্রিকেটের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত সাটন-ইন-অ্যাশফিল্ডে খুব ছোটবেলায় চলে যান। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। কাকাতো ভাই টম নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে একটি খেলায় অংশ নেন। অপর কাকাতো ভাই এমট রবিনসন ইয়র্কশায়ারের তারকা খেলোয়াড় ছিলেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৭ থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৭৭ সালে নটিংহ্যামশায়ারের যোগ দেন ও প্রায় ২০ বছর দলটির পক্ষে খেলেন। ১৮৭৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে প্রথমবারের মতো আসা সফরকারী অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণকারী নটস একাদশের সর্বশেষ জীবিত খেলোয়াড় ছিলেন।
কাউন্টি একাদশের পক্ষে প্রথম কয়েক মৌসুম কেবলমাত্র পরিবর্তিত বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। এছাড়াও, সাত কিংবা আট নম্বর অবস্থানে নেমে দ্রুতলয়ে কিছু রান সংগ্রহে তৎপর হতেন। শ’ ও মর্লে নটিংহ্যামশায়ারের বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতেন এবং তাঁদের অনুপস্থিতিতে ১৮৭৮ সালে নটিংহামে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৪০ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করে স্বীয় সক্ষমতার কথা জানান দেন। আরেকবার ১৮৭৯ সালে লর্ডসে যখন তাঁদের বোলিংয়ে নিষ্প্রভতা লক্ষ্য করা যায়, তখন তিনি মিডলসেক্সের বিপক্ষে ৭/১৬ বোলিং করেছিলেন।
১৮৮১ সালে নটিংহ্যামশায়ারের একদল খেলোয়াড়ের ধর্মঘটের সাথে যুক্ত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হন। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে এক ইনিংসে ১২.২-১১-২৩-৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ খেলায় তিনি ৮৫ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেন।
১৮৮৪ থেকে ১৮৯৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জনি ব্রিগস, জো হান্টার, ববি পিল ও উইলিয়াম অ্যাটওয়েলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ০/২৭ করে বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জোই পালমারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
ইংল্যান্ডের মাটিতে কেবলমাত্র একবার টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ডব্লিউ ডব্লিউ রিডের পরিবর্তে তাঁকে খেলানো হয়েছিল। ১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। চার্লি টার্নারকে শূন্য রানে বিদেয় করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৮৯৬ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও ১৮৯৯ সালে লর্ডসের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। এরপর আম্পায়ারিং জগতে প্রবেশ করেন। ১৯০৭ থেকে ১৯১২ সময়কালে চারটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। অ্যাশফিল্ডের সাটনে বসবাস করতেন। শীতকালে বয়নশিল্পে কাজ করতেন। ১ নভেম্বর, ১৯২৬ তারিখে নটিংহামের কার্লটন এলাকায় কর্মস্থলে আকস্মিকভাবে ৬৯ বছর ৩২৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
