২৬ অক্টোবর, ১৮৯০ তারিখে লন্ডনের মেরিলেবোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
খাঁটিসম্পন্ন ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। লি ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন। ১৯১১ থেকে ১৯৩৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কোচবিহারের মহারাজা একাদশের পক্ষে খেলেছেন। দুইবার শীতকালে ভারত গমন করেন। ১৯১৭-১৮ মৌসুমে কোচবিহার একাদশ ও ১৯১৮-১৯ মৌসুমে ইংরেজ একাদশের পক্ষে খেলেন।
১৯৩১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩০-৩১ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোচের দায়িত্ব পালনকালীন তাঁকে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন সফররত এমসিসি দলে যুক্ত করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। বিল ফারিমন্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দুই ইনিংস থেকে ১৯ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন। খেলায় তিনি ১৮ ও ১ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
সব মিলিয়ে ৪০১টি খেলায় অংশ নিয়ে ২৩টি শতক সহযোগে ২৯.৯৪ গড়ে ১৮৫৯৪ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯২১ সালে লর্ডসে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। তেরো মৌসুম সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১৯২৯ সালে ৩৭.৬৪ গড়ে সর্বাধিক ১৯৯৫ রানের সন্ধান পেয়েছেন। বল হাতে নিয়ে ৩২.৫৪ গড়ে ৩৪০ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১৯২৩ সালে চেল্টেনহাম কলেজে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৩৯ লাভ করেন। এছাড়াও, ১৮১টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত হবার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এরপর, ১৯৩৫ থেকে ১৯৪৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন। আম্পায়ার হিসেবে ২৯টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণকে ঘিরে লরেন্স থম্পসনের সাথে যৌথভাবে ‘ফোরটি ইয়ার্স অব ইংলিশ ক্রিকেট’ শিরোনামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
২১ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় অবস্থিত মিডলসেক্স হাসপাতালে ৯০ বছর ১৭৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় জীবিত বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটারের মর্যাদা পান। তিনি অ্যান্ড্রু স্যান্ডহামের তুলনায় ১১২ দিনের কনিষ্ঠ ছিলেন। এছাড়াও, ১৯২০ সালে লর্ডসে সারের বিপক্ষে মিডলসেক্সের নাটকীয় বিজয়ে অংশগ্রহণকারী দলের সর্বশেষ সদস্য ছিলেন। তাঁর অপর দুই ভ্রাতা এস.এস. ও জে.ডব্লিউ. মিডলসেক্স এবং সমারসেটের পক্ষে খেলেছেন।
