২৮ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে গ্লুচেস্টারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের তারকা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়েছেন। বেশ নিখুঁততার সাথে প্রকৃতমানসম্পন্ন পেস বোলিং করতেন ও তাঁর মাঝে বেশ সম্ভাবনার চিত্র নিহিত ছিল। কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন অল্পতেই থেমে যেতে বাধ্য হয়।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে নিজ দেশে রঞ্জন মাদুগালে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ফিল নিউপোর্ট, কিম বার্নেট ও জ্যাক রাসেলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৩৭ ও ২/৭৪ বোলিংশৈলী দাঁড় করান। তবে, অপর ফিল নিউপোর্টের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পায়।
২৭ মে, ১৯৯১ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন।
১৯৯১-৯২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৬৭ ও ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঐ টেস্টের শেষদিনে বল তুলতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে যান ও তাঁর হাঁটুতে চিড় ধরে। অ্যালেক স্টুয়ার্টের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর সুবাদে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
তীব্র ব্যথায় জর্জড়িত আঘাতের কারণে তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তবে, ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অব্যাহত রেখেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৬ বছরের খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ২০ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে গ্লুচেস্টারশায়ারের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন। তিনি দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন।
জন্ম নিবন্ধনে তিনি ‘ডেভ ভ্যালেন্টাইন লরেন্স’ নামে পরিচিত। ২২ জুন, ২০২৫ তারিখে ৬১ বছর ১৪৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
