২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের গ্রিসলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
জবুথবু গড়নের অধিকারী ছিলেন। ১৭ স্টোনের অধিক ওজন নিয়ে খেললেও উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ফাস্ট বোলারদের বল মোকাবেলায় বেশ চটপটে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখর জোড়ালো ভূমিকা রাখতেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী মোর্ডেকাই শেরউইনের বিষয়ে বিল ফ্রিন্ডল মন্তব্য করেন যে, খুব সম্ভবতঃ সর্বকালের ভারী ওজনের টেস্ট উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পেয়ে থাকবেন। ১৮৭৬ থেকে ১৮৯৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের ১৫১তম খেলোয়াড় হিসেবে যুক্ত হন।
এক পর্যায়ে নটিংহ্যামশায়ার দল তাদের ক্রান্তিকালে পৌঁছে। ৪৫ বছর বয়সী আলফ্রেড শ’ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সেরা দিনগুলো ফেলে এসেছেন ও ১৮৮৭ মৌসুমের শুরুতে অধিনায়কত্ব থেকে অব্যহতি পান। শূন্যস্থান পূরণে তাঁকে অধিনায়কের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সাল পর্যন্ত ৩৪টি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন। ক্রিকেটীয় কৌশল প্রজ্ঞার সাথে প্রয়োগ করলেও প্রথম খেলায় তাঁর দল পরাজিত হয়। তবে, ১৮৮৩ থেকে ১৮৮৬ সময়কালে উপর্যুপরী পাঁচবার অনানুষ্ঠানিক শিরোপা লাভ করলেও ১৮৮৭ সালে সারে দলে শিরোপা পায়।
১৮৮৭ থেকে ১৮৮৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র তিন টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনির অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। উইলিয়াম গানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। শেষ উইকেটে ৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। পাশাপাশি, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ১৩ রানের নাটকীয় জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়ে দুই ক্যাচ ও ২ স্ট্যাম্পিং করেন।
১৮৮৮ সালে নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৬ জুলাই, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ খেলায় তিনি কোন রান পাননি ও ২ ক্যাচ তালুবন্দী করেন। স্বাগতিক দল ৬১ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে ৩০ রান, ৫ ক্যাচ ও ২ স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান।
১৮৯১ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও দক্ষ ছিলেন। নটস কাউন্টির গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি টেস্ট ও তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিন কন্যা ও তিন পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। ৩ জুলাই, ১৯১০ তারিখে নটিংহামে ৫৯ বছর ১২৭ দিন বয়সে নিজ গৃহে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
