২ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০০৯-১০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, ঢাকা ডায়নামাইটস, ফরচুন বরিশাল, রাজশাহী রয়্যালস ও রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগ বনাম সিলেট বিভাগের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
স্পিনারদের প্রাচুর্য্যে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ দলে দূর্লভ পেসারদের অন্যতম হিসেবে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বলকে সুইং করানোয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। ছন্দোবদ্ধ ভঙ্গীমায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হন ও অফের দিকে বল ফেলেন।
কিশোর বয়সেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ঘরোয়া ক্রিকেটের দীর্ঘতর সংস্করণের খেলায় অংশ নিয়ে থাকেন। এছাড়াও, ঘরোয়া টি২০ লীগ বিপিএলের ন্যায় ক্ষুদ্র সংস্করণের খেলায়ও পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। নতুন বলে সাফল্য লাভের পাশাপাশি শেষেরদিকের ওভারগুলোয়ও ইয়র্কারের মাধ্যমে দক্ষতা দেখিয়েছেন।
উদীয়মান পেস বোলার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও লিস্ট-এ ক্রিকেটে ২০১০ সাল থেকে অংশ নিচ্ছেন। তবে, বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার জন্যে দীর্ঘ আট বছর অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছে। শুরুতে টি২০আই খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। এরপর, টেস্ট দলে ঠাঁই পান।
ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮-১৯ মৌসুমে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। শারীরিক সচেতনতা ও দলীয় শৃঙ্খলার ন্যায় বিষয়গুলোর দিকে কিছুটা খেয়ালীপনাভাব লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশী ক্রিকেটে ফাস্ট বোলার হিসেবে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিশীলতা রয়েছে।
২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ২০১৮ সালে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৪ জুলাই, ২০১৮ তারিখে নর্থ সাউন্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ইনিংস ও ২১৯ রানে জয়লাভ করে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
জাতীয় দলে অংশগ্রহণের পরপরই বাংলাদেশের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের আস্থা অর্জন করেছেন। এছাড়াও, বলে নিখুঁত ভাব বজায় রাখার পাশাপাশি নিশানা বরাবর বোলিংয়ের জন্যে দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের সহায়তা পেয়েছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্যে মনোনীত হন। তবে, এর পূর্বে কোন ওডিআই খেলায় অভিজ্ঞতা না থাকায় ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন। ত্রি-দেশীয় সিরিজে নিজের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটান। নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ৫-উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান।
২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৬৪ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৮ ও ০ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
