২৭ জুন, ১৯৩৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার চেল্টেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘হকআই’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১.৮৫ মিটার উচ্চতা ও ৯১ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। উডভিল স্কুলে অধ্যয়ন করেছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে দুইটি ক্লাবে খেলেছিলেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ী সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২৭ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫১ ও ০/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটিও ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ইজে বার্লোকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৫৩। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট পান। বল হাতে নিয়ে ৬/১৩৯ ও ০/২০ লাভ করেন। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।
ব্যাটিংয়ের কারণে নিজেকে স্মরণীয় করে রেখছেন। ১৯৬৪ সালে ওভালে সিরিজের তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন মধ্যাহ্নভোজনের পর ফ্রেড ট্রুম্যানের আউট-সুইঙ্গার ব্যাটের প্রান্ত ভাগ স্পর্শ করলে স্লিপে দণ্ডায়মান কলিন কাউড্রে’র মুঠোয় ক্যাচ নিলে তাঁকে বিদেয় নিতে হয়। এরফলে, ইয়র্কশায়ারীয় কলিন কাউড্রে টেস্টের ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
১৯৬৮ সালে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২০ জুন, ১৯৬৮ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯৬০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া বোলিং আক্রমণে প্রধান পরিচালনা শক্তি হিসেবে নিজেকে চিত্রিত করেছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২৯.৪১ গড়ে ৯১ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, দশ বছরব্যাপী প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ৪৫৮ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে ২৩ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৬৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন।
তরুণ বয়সে চমৎকার অ্যাথলেট ছিলেন। অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে অংশ নিতেন। ক্রিকেটের তুলনায় ফুটবলকে প্রাধান্য দেন। ফরোয়ার্ড অবস্থানে খেলতেন। পোর্ট অ্যাডিলেড, ইস্ট পার্থ ও ওয়েস্ট টরেন্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৫৭ সালে পোর্ট অ্যাডিলেডের পক্ষে প্রথম খেলেন। পাঁচ খেলা থেকে ২৭ গোল করেছিলেন। তন্মধ্যে, সাউথ অ্যাডিলেডের বিপক্ষে এক খেলায় ১৫ গোল করেন। তবে, ওয়েস্ট অ্যাডিলেডের বিপক্ষে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে বাদ পড়েন। এরপর, আর বড়দের দলে খেলেননি। অবসর সময়ে গল্ফ খেলতেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। বেভার্লি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। জীবনের শেষ বিশ বছর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ২৫ ডিসেম্বর, ২০০০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার নর্থ অ্যাডিলেড এলাকায় ৬১ বছর ১৮১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
