| |

মাইক হুইটনি

২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮১ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১২ টেস্ট ও ৩৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে বিখ্যাত ইংরেজ তারকা ইয়ান বোথাম, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান ভিভ রিচার্ডস ও তৎকালীন তরুণ শচীন তেন্ডুলকরের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

১৯৮১ সালে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দল ইংল্যান্ড গমন করে। ইংল্যান্ডে সফররত অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রণবার্তা লাভ করেন। এ পর্যায়ে তিনি গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলাকালীন আঘাতপ্রাপ্ত হন। ১৩ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৫০ ও ২/৭৪ লাভ করেন। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। ইয়ান বোথামের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১০৩ রানে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

তবে, পরবর্তী ছয় বছর দল থেকে উপেক্ষিত হন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অধিকাংশ খেলাই ১৯৮০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত খেলেছিলেন।

১৯৮৭ সালে বক্সিং ডে টেস্টে সর্বাপেক্ষা সুনাম কুড়ান। এগারো নম্বর অবস্থানে নেমে রিচার্ড হ্যাডলি’র বল মোকাবেলা করেছিলেন। ১৮ বল রুখে দিয়ে দলকে নিশ্চিত পরাজয় থেকে রক্ষা করেন। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এ প্রতিযোগিতায় দলের সর্বাপেক্ষা মিতব্যয়ী বোলারে পরিণত হন। একই মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে তিন টেস্ট খেলেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে ব্যক্তিগত স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। সিরিজের পঞ্চম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/২৭ লাভ করেন। প্রথম ইনিংসে ৪/৬৮ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ঐ গ্রীষ্মে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ উইকেট শিকারীতে পরিণত হয়েছিলেন।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৭ ও ১/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। তবে, শেন ওয়ার্নের সুন্দর বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১৩৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অস্ট্রেলীয় ও এনএসডব্লিউ ক্রিকেট সমর্থকদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। মনেপ্রাণে খেলায় নিজেকে সমর্পণ করে দিতেন। ১০ জুন, ২০১৯ তারিখে ফেইদ টমাসের সাথে রাণীর জন্মদিনের সম্মাননা হিসেবে অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া উপাধীতে ভূষিত হন। অবসর গ্রহণের পর টেলিভিশন ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ‘হু ডেয়ার্স উইন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, অস্ট্রেলীয় সংস্করণ গ্ল্যাডিয়েটর্স টিভি গেমসে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগের ধারাভাষ্যকার দলের সদস্য হন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে সাউথ সিডনি রাব্বিটোহ’র আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত হন।

Similar Posts

  • |

    বানি বাটলার

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে ত্রিনিদাদের উডব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর…

  • |

    মুরালি বিজয়

    ১ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। মুরালী ও লক্ষ্মী দম্পতির সন্তান। ১৭ বছর বয়সে কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ভরত অরুণের নজরে পড়েন।…

  • | | |

    মারভান আতাপাত্তু

    ২২ নভেম্বর, ১৯৭০ তারিখে কালুতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। গলের মহিন্দ্র কলেজে অধ্যয়নকালীন জিডব্লিউএস ডি সিলভা’র কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে, কলম্বোর আনন্দ…

  • | | |

    খালেদ মাহমুদ

    ২৬ জুলাই, ১৯৭১ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সহজাত প্রতিভার অধিকারী না হয়েও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বোলিংয়ে মনোনিবেশ ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে ব্যাটসম্যানদের কাছে বিস্ময়াকারে পরিচিতি ঘটাতেন। অধিনায়ক…

  • |

    সিরিল পুল

    ১৩ মার্চ, ১৯২১ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ফরেস্ট টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শৈশবকালে তাঁর মাঝে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের গুণাবলী লক্ষ্য করা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জিলিংহামের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪১ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে…

  • | |

    কেন মিউলম্যান

    ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ইনিংস উদ্বোধনের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৪০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব…