|

ম্যান্ডি মিচেল-ইন্স

৭ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

সেডবার্গে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। সেডবার্গে থাকাকালীন অসাধারণ বিদ্যালয় বালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। একবার তিনি অভ্যন্তরীণ খেলায় ৩০২ রান তুলে অপরাজিত ছিলেন। ১৯৩১ থেকে ১৯৪৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সমারসেটের সদস্যরূপে অভিষেক ঘটে তাঁর। ১৬ বছর বয়সে ১৯৩১ সালে টনটনে কাউন্টি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও দুই উইকেট দখল করেছিলেন।

পরবর্তী বছরগুলোয় অক্সফোর্ডের একাদশ দলের সদস্য হিসেবে থাকেন। সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে ১৬৮ রানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, টেস্ট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ১৯৩৭ সালে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্কটল্যান্ড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। এছাড়াও, কার্যকর মিডিয়াম পেসার হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। এক পর্যায়ে সমারসেটের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৩৫ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র একটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে হার্বি ওয়েডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৫ জুন, ১৯৩৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ঐ টেস্টে দলের একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি আমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

তাসত্ত্বেও, লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তু, এর পূর্বে জ্বরের কবলে পড়লে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। ইংল্যান্ডের পক্ষে আর খেলার জন্যে সুযোগ না পেলেও ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যান। তবে, সেখানে তিনি বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন।

পরবর্তী গ্রীষ্মে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। কেমব্রিজের বিপক্ষে ৪৩ ও ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন। তাসত্ত্বেও তাঁর দল পরাজয়বরণ করেছিল। ১৯৩৬ সালে সমারসেটের পক্ষে দারুণ গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত করেন। কিন্তু, পরের বছর সুদান পলিটিক্যাল সার্ভিসে যোগদানের ফলে তাঁর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। বার্ষিক ছুটিকালীন ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত অসম খেলায় অংশ নিতেন। যুদ্ধের পর চারবার কাউন্টি দলের অধিনায়কত্ব করেছেন।

সমারসেটের পক্ষে ৬৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে তিন শতক সহযোগে ২৪.২৩ গড়ে ২৮৩৫ রান সংগ্রহ করেন। ১৯৩৬ সালে কিডারমিনস্টারে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮২ রান তুলেন। এছাড়াও, ৩৫.৬৮ গড়ে ৩১ উইকেট পেয়েছেন। ১৯৩৪ সালে ইস্টবোর্নে সাসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৪/৬৫ লাভ করেন। সব মিলিয়ে ১৩২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ১৩ শতক সহযোগে ৩১.৪২ গড়ে ৬৯৪৪ রান ও ৩৪.৭৯ গড়ে ৮২ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৫৪ সালে পলিটিক্যাল সার্ভিস থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে পানশালা প্রতিষ্ঠানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের পর তাঁর সাথে একত্রে খেলা এরিক হিল মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘তিনি প্রাণবন্তঃ ছিলেন ও প্রকৃত ভদ্রলোক ছিলেন। অধিনায়কের দায়িত্ব সুচারূরূপে পালন করেছিলেন।’

২৮ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ৯২ বছর ১১২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৪৪ সালে প্যাট্রিসিয়া রোসিটার নাম্নী এক রমণীর সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক তিনি। পরবর্তীতে বিপত্নীক হন। আবেরগেভনির কাছাকাছি এলাকায় জামাতার বাড়ীতে বসবাস করতেন। মৃত্যুকালীন ইংল্যান্ডের বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে অংশ নেয়া সর্বশেষ ইংরেজ ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

Similar Posts

  • | |

    স্টিভ স্মিথ

    ২ জুন, ১৯৮৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। পিটার স্মিথ ও জিলিয়ান স্মিথ দম্পতির সন্তান। ক্রিস্টি স্মিথ নাম্নী জ্যেষ্ঠা…

  • | |

    জোনাথন ক্যাম্পবেল

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী তিনি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পিতা এডিআর ক্যাম্পবেল জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট ও কাকা ডিজেআর ক্যাম্পবেল প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৯-২০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ক্রিস উকস

    ২ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি…

  • |

    আব্দুল রাজ্জাক

    ২ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রথিতযশা ও শক্তিধর অল-রাউন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে সুনাম কুড়িয়েছেন। বলকে সীমানা পাড় করতে তৎপরতা দেখাতেন। তবে, শেষেরদিকের…

  • | |

    জন কিং

    ১৬ এপ্রিল, ১৮৭১ তারিখে লিচেস্টারশায়ারের লাটারওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়েও সমান দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় অন্যতম সেরা বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ…

  • | | | |

    আমির সোহেল

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। পিছনের পায়ের উপর ভর রেখে খেলতেন। সহজাত প্রকৃতির আক্রমণাত্মক ধাঁচে খেলতে পছন্দ করতেন…