২৭ এপ্রিল, ১৯০৮ তারিখে ডার্বিশায়ারের স্টোনব্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
লালচে-বাদামী রঙের চুলের অধিকারী ছিলেন। কয়লা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯২৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ক্রিকেটের প্রতি তাঁর কোন আগ্রহ ছিল না। ঐ বছর খনিতে ধর্মঘট শুরু হলে স্থানীয় দলে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে সফলতার সন্ধান পান। পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যেই ডার্বিশায়ার কর্তৃপক্ষের নজর কাড়তে সক্ষম হন। ১৯৩২ থেকে ১৯৫০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করতেন।
প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনেও শুরুতেই সফল হন। টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম ত্রি-শতকধারী অ্যান্ডি স্যান্ডহামের বিপক্ষে বোলিং করে প্রথম বলেই বিদেয় করেন। আঘাতজনিত সমস্যায় কিছুকাল বিশ্রামে চলে যান। ১৯৩৬ সালে পুণরায় দলে ফিরে স্বরূপ ধারন করেন। দলের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। এ পর্যায়ে ১৩.৩৪ গড়ে ১৬০ উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, শক্তিধর সারে দলের বিপক্ষে খেলায় ৫২ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেন। এরফলে, গাবি অ্যালেনের দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। কিন্তু, পরিবেশের উপযোগী বোলিংয়ে বেশ হিমশিম খেলে তাঁকে কোন টেস্ট খেলার সুযোগ দেয়া হয়নি।
১৯৩৯ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। ১৯৩৯ সালে ইংল্যান্ডে সফররত রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। প্রথম ইনিংসে লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইন, জর্জ হ্যাডলি ও ইভান ব্যারো’র উইকেটসহ ৫/৮৫ পান। এটিই তাঁর স্বল্পকালীন টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র পাঁচ-উইকেট লাভের ঘটনা ছিল। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, ‘খাঁটোমানের বল করলেও তিনি চাতুর্য্যতার সাথে বোলিং করেছেন। সর্বদাই সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।’ তিনি পুণঃপুণঃ মাঝের ও লেগ স্ট্যাম্প বরাবর ইন-সুইঙ্গার করেছিলেন। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চার উইকেটের সন্ধান পেলে খেলায় তিনি ১৫২ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেছিলেন। বলাবাহুল্য, ইংল্যান্ড দল ঐ খেলায় ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিল।
১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৪৬ ও ০/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৭ সময়কালে ৮টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও সমসংখ্যক লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ তারিখে ডার্বিশায়ারের ক্লে ক্রস এলাকায় ৬৩ বছর ১৩৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
