| |

উইলফ্রেড রোডস

২৯ অক্টোবর, ১৮৭৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের নর্থ মুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইউরোপিয়ান্স (ভারত) ও পাতিয়ালার মহারাজা একাদশের সদস্যরূপে খেলেছেন। ১৮৯৮ থেকে ১৯৩০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। এ সময়ে যে-কোন খেলোয়াড়ের চেয়ে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভে এগিয়েছিলেন। ২১ মৌসুমে ১০০০ রান ও ২৩ মৌসুমে ১০০ উইকেট দখল করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ৪১৮৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন।

১৮৯৯ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে ৫৮ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৫২ বছর ১৫৬ দিন বয়সে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এরফলে, টেস্টের ইতিহাসের বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। ১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। এটিই ইংল্যান্ডের মাটিতে শুরু হওয়া প্রথম পাঁচ-টেস্টের রাবার ছিল। ১ জুন, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে ডব্লিউজি গ্রেসের বিদায়ী খেলায় তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৫৮ ও ৩/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯০৩-০৪ মৌসুমে পেলহাম ওয়ার্নারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এ সফরে তাঁর দল অ্যাশেজ জয় করতে সমর্থ হয়। এক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বনিম্ন রান সংগ্রহের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে ভিক্টোরিয়া দলকে মাত্র ১৫ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। টেড আর্নল্ডের ৬-২-৮-৪ বোলিং বিশ্লেষণের সাথে তিনি ৬.১-৩-৬-৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়ে দলকে ৮ উইকেটের জয় এনে দেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে তিনি ৬/৬২ পেয়েছিলেন।

১৯০৯-১০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হেনরি লেভসন-গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৬ ও ২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বার্ট ভগলারের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৪ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৯ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১১ মার্চ, ১৯১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৬৯ রান অতিক্রম করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৭ ও ০* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৯ উইকেটে জয়লাভ করলেও সফরকারীরা ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে জ্যাক হবসের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এ দু’জন প্রথম উইকেটে ৩২৩ রান যুক্ত করেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম ঘটনা হিসেবে যে-কোন উইকেটে ২৫০ কিংবা ৩০০ রান সংগ্রহ ছিল। এরফলে, ১৯০৮ সালে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার রজার হার্টিগান ও ক্লেম হিলের সংগৃহীত অষ্টম উইকেটে ২৪৩ রানের পূর্বতন রেকর্ড ম্লান হয়ে পড়ে। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১৭৯ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২২৫ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯১৩-১৪ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে জিপিডি হার্টিগানের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৩ ও ০/২০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১৫২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ইনিংস ও ১২ রানে জয়লাভ করলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেডি ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ৩ এপ্রিল, ১৯৩০ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮* ও ১১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৭ ও ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে শেষ হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ৩০ বছর ৩১৫ দিন টেস্ট ক্রিকেটের সাথে যুক্ত ছিলেন। টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভের অধিকারী হন। সিড গ্রিগরিবিনু মানকড়ের সাথে টেস্টের ইতিহাসের তিনজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে প্রথম থেকে শেষ অবস্থানের প্রত্যেকটিতে ব্যাটিং করে অনবদ্য রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছিলেন। ৮ জুলাই, ১৯৭৩ তারিখে ডরসেটের ব্রাঙ্কসাম পার্ক এলাকায় ৯৫ বছর ২৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    সৈয়দ আবিদ আলী

    ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন ও নিচেরসারিতে ব্যস্ততার সাথে উইকেটের প্রান্ত বদলে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিঠ সোজা রেখে, খাড়া গোঁফ নিয়ে সুনিয়ন্ত্রিত…

  • |

    বেন সিলি

    ১২ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে ত্রিনিদাদের সেন্ট যোসেফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সীমানা এলাকায় ফিল্ডিং করতেন। ১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।…

  • | |

    ললিত কালুপেরুমা

    ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। এছাড়াও, সিলন দলের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট…

  • | |

    জক ক্যামেরন

    ৫ জুলাই, ১৯০৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের পোর্ট এলিজাবেথে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনোবা ‘হার্বি’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। নাটালভিত্তিক হিল্টন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। সেখানে প্রথম একাদশের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা…

  • | |

    অ্যান্ডি গ্যানটিউম

    ২২ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তাঁর পিতা-মাতা। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    জর্জ স্ট্রিট

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৮৯ তারিখে সারের মুরস ফার্ম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯০৯ থেকে ১৯২৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯০৯ সালে প্রথমবারের মতো সাসেক্স দলের পক্ষে…