|

বিল স্টোরার

২৫ জানুয়ারি, ১৮৬৭ তারিখে ডার্বিশায়ারের বাটারলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণ কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৮৭ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। সন্দেহাতীতভাবে ডার্বিশায়ারের ক্রিকেটের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছেন। ফাস্ট বোলারদের বল মোকাবেলায় উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে গ্লাভসবন্দী করতে পারতেন।

উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের আকালে তিনি দক্ষতার সাথে উচ্চমানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দুই মৌসুমে পঞ্চাশের অধিক গড়ে রান পেয়েছিলেন। ১৮৯৯ মৌসুমে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ২১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল। প্রথম পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে দুইটি শতক হাঁকান। প্রবল শক্তিধর ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে একই খেলা থেকে এ সাফল্য পান। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৪ সালে লর্ডসে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে খেলেছিলেন।

১৮৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে ড্রিওয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৩ ডিসেম্বর, ১৮৯৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জর্জ হার্স্ট, জ্যাক ম্যাসন ও ফ্রাঙ্ক ড্রুসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের ঐ টেস্টের চূড়ান্ত দিনের মধ্যাহ্নবিরতিতে আপত্তিজনক ভাষা প্রয়োগ করতে দেখা যায়। ঘটনাবহুল এ খেলার পঞ্চম দিন নো-বল থেকে রান করতে ব্যর্থ চার্লি ম্যাকলিওড ক্রিজ ছেড়ে বেড়িয়ে আসলে তিনি তাঁকে রান-আউটে বিদেয় করিছেন। শ্রবণশক্তির অভাবে ম্যাকলিওড আম্পায়ারের ডাক শুনতে পাননি। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে দণ্ডায়মান থেকে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। 

১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১ জুন, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আর্নি জোন্সের বলে বিদেয় নেন। তবে, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে ইংল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তাঁকে ওয়ারউইকশায়ারের ডিক লিলি’র সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর পরিবর্তে ডিক লিলিকে অগ্রাধিকার দিলে তাঁর অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে।

১৯০০ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ২৮৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে সতেরোটি শতরান সহযোগে ২৮.৮৭ গড়ে তেরো হাজারের অল্প কম রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, ৫৫ স্ট্যাম্পিং ও ৩৭৬টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। লেগ স্পিন বোলিং করেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। চারবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/২০ পান ও ৩৪ গড়ে ২৩২ উইকেট দখল করেছিলেন।

অবসর গ্রহণকালীন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। ১৮৯৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ইনসাইড ফরোয়ার্ড অবস্থানে ডার্বি মিডল্যান্ডের পক্ষে খেলতে শুরু করেন। নভেম্বর, ১৮৮৮ সালে নটস কাউন্টিতে এফএ কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন। তবে, ঐ খেলায় ডার্ব মিডল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। ১৮৯১ সালে ডার্বি কাউন্টিতে যোগ দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে ডার্বিতে মাত্র ৪৫ বছর ৩৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জুলকারনাইন হায়দার

    ২৩ এপ্রিল, ১৯৮৬ তারিখে লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লম্বা ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী। ১৩ বছর বয়সে ২০০০ সালের গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেন। চার বছর পর ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলেন। ১৮ বলে ২৩…

  • | |

    মাখায়া এনটিনি

    ৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের এমডিঙ্গি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জর্জ’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে তাঁর বোলিংয়ের সক্ষমতা ও অনবদ্য ভঙ্গীমায় নিজের পরিচিতি ঘটান। ১৫ বছর বয়সে…

  • |

    হপার রিড

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে এসেক্সের উডফোর্ড গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অংশ নিতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩…

  • | | | |

    রিচি বেনো

    ৬ অক্টোবর, ১৯৩০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিথে জন্মগ্রহণকারী ফরাসী বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক ও লেখক ছিলেন। খুব স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারই তাঁর ন্যায় স্বার্থকভাবে খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। অল-রাউন্ডার হিসেবে লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। অন্যান্য বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় স্পিনারের ন্যায় বড় মাপের স্পিনার না হলেও পিচে অপ্রত্যাশিতভাবে…

  • |

    রন গন্ট

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ইয়র্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘পাপ্পি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন…

  • |

    লাহিরু কুমারা

    ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শক্তসমর্থ ও মজবুত গড়নের অধিকারী। ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরেই নিজেকে সকলের সমক্ষে পরিচিতি…