|

ফ্রাঙ্ক স্মেইলস

২৭ মার্চ, ১৯১০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের রিপ্লি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে দলের পেস বোলার ও বিনোদনধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এ সময়ে সাতবার দলের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন। বিল বোসকে সাথে নিয়ে মিডিয়াম-পেস বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। বৃষ্টির কবলে পড়া পিচে অফ-স্পিনার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতেন।

ইয়র্কশায়ারের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ২০.৭২ গড়ে ৮০২ উইকেট লাভ করেন ও ১৯.১৯ গড়ে ৫৬৮৩ রান সংগ্রহ করেছেন। পাঁচ মৌসুমের মধ্যে চারবার ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ১৯৩৫ সালে ৯৬ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৩৮ সালে ‘ডাবল’ লাভ করেন। ঐ মৌসুমেই তিন শতকের সবগুলো হাঁকিয়েছেন। তন্মধ্যে, শেফিল্ডে সারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ গ্রীষ্মে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে অসাধারণ খেলেছিলেন।

১৯৩৮ সালে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। বৃষ্টির কারণে ব্রামল লেনের খেলায় ডি. জি. ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে সম্ভাব্য জয় থেকে বঞ্চিত হয় তাঁর দল। ৬/৯২ ও ৪/৪৫ লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে সিরিজের তৃতীয় টেস্টকে ঘিরে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে যুক্ত করা হয়। কিন্তু, ঐ খেলাটি বৃষ্টিবিঘ্নিত হয়। ১৯৩৯ সালে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ১০/৪৭ পান। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে ছেদ ঘটে।

১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩৬ বছর বয়সে ২২ জুন, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ইকিন ও অ্যালেক বেডসারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আট নম্বর অবস্থানে থেকে ২৫ রান তুলেন ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩/৪৪ লাভ করেন। ১০ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন রয়্যাল আর্টিলারিতে ক্যাপ্টেন পদবীধারী ছিলেন। যুদ্ধের পর তিন মৌসুম খেলেন। নরম্যান ইয়ার্ডলি’র অনুপস্থিতিতে প্রায়শঃই ইয়র্কশায়ারকে নেতৃত্ব দিতেন। ৮২২ উইকেট ও ৫৮৯২ রান তুলে ক্রিকেট জগৎকে বিদেয় জানান। বেশ কয়েক বছর দূর্বল স্বাস্থ্য নিয়ে জীবনযাপন করেছেন। অতঃপর, ১ ডিসেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের স্টারবেক এলাকার হ্যারোগেট হাসপাতালে ৬০ বছর ২৪৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    উইলিয়াম স্কটন

    ১৫ জানুয়ারি, ১৮৫৬ তারিখে নটিংহামের মাউন্ট স্ট্রিট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর জন্মসনদে পিতার নাম স্কটর্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, ধারনা করা হয় যে – এটি ভুল ছিল। নটিংহামের পিপলস…

  • |

    বিল ব্রাডলি

    ২ জানুয়ারি, ১৮৭৫ তারিখে লন্ডনের সিডেনহাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। এলিয়েন্স স্কুল একাদশের অধিনায়কত্ব করেছেন। তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল মিচামে লয়েড রেজিস্টারের পক্ষে ৬…

  • |

    বিল পন্সফোর্ড

    ১৯ অক্টোবর, ১৯০০ তারিখে ভিক্টোরিয়ার নর্থ ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উইলিয়াম পন্সফোর্ড ও এলিজাবেথ দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন। নর্থ ফিটজরয়ের আলফ্রেড ক্রিসেন্ট স্টেট স্কুলে অধ্যয়ন। সেখানে ক্রিকেটে দুইবার পদক লাভ…

  • |

    জেমস মার্শাল

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে অকল্যান্ডের ওয়ার্কওয়ার্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিভাবান শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। কখনোবা ইনিংস উদ্বোধনে, আবার কখনোবা মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। তাঁর যমজ ভ্রাতা হামিশ মার্শাল নিউজিল্যান্ড দলের…

  • |

    আড্রিয়ান কুইপার

    ২৪ আগস্ট, ১৯৫৯ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েস্টার্ন কেপের এলগিনে তাঁদের ফলমূল ও পোল্ট্রি খামার রয়েছে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান তিনি। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জেন কুইপার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও ভ্রাতৃষ্পুত্র…

  • |

    হেনরি চার্লউড

    ১৯ ডিসেম্বর, ১৮৪৬ তারিখে সাসেক্সের হোরশ্যাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ শীর্ষসারির আক্রমণাত্মক ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, লব বোলিং করতেন ও কভার অঞ্চলে ফিল্ডিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৬৫ সাল থেকে ১৮৮২ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্স…