| |

জ্যাক ইকিন

৭ মার্চ, ১৯১৮ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের বিগনল এন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৮ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সচরাচর খেলায় সচেতনতার পরিচয় দিতেন। তরুণ বয়সে লেগের তুলনায় অফের দিকে বল ফেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বেশ দৃঢ়চিত্তে খেলতেন ও বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতেন এবং বাজেভাবে উইকেট থেকে ফিরে আসতেন না। সচরাচর ইনিংস উদ্বোধন কিংবা ছয়-সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেই অধিক পছন্দ করতেন। সর্বোপরি দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। শর্ট-লেগ কিংবা স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থাকতেন।

১৯৪৬ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে আঠারো টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ২০.৮৯ গড়ে ৬০৬ রান ও ১১৮ গড়ে তিন উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, বড় ধরনের ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে, দলের প্রয়োজনে সাহসিকতার সাথে খেলতে সচেষ্ট হতেন। লেন হাটন, সিরিল ওয়াশব্রুক, ডেনিস কম্পটন, এডরিচ তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। এছাড়াও, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে পিটার মেকলিন কাউড্রে’র ন্যায় উদীয়মান তারকা খেলোয়াড়ের আবির্ভাবে মাঝে-মধ্যে ও বেশ বিরতি নিয়ে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হতেন।

১৯৪৬ সালে নিজ দেশে ইফতিখার আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুন, ১৯৪৬ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালেক বেডসার ও ফ্রাঙ্ক স্মেইলসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬ রান সংগ্রহস দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সিডনি টেস্টে তিন ঘণ্টা ক্রিজে অবস্থান করে ৬০ রান তুলেন। দলের ২৫৫ রানের মধ্যে তাঁর সংগ্রহটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল। অপরদিকে, মেলবোর্নে দলের সঙ্কটময় মুহূর্তে ৪৮ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ইয়ার্ডলি’র সাথে দুই ঘণ্টায় ১১৩ রানের জুটি গড়েন।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে ওয়ালি হ্যামন্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২১ মার্চ, ১৯৪৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলায় দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

১৯৫১ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৩ রানে তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। লর্ডসে ৫১ ও ওল্ড ট্রাফোর্ডে কুয়ান ম্যাকার্থি’র ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ২২ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করেন। লেন হাটনের উদ্বোধনী অংশীদার হিসেবে নিচুমূখী রানের খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫২ সালের ওভাল টেস্টে ৫৩ রান করেন। তিন বছর দলের বাইরে থাকার পর গডার্ডের লেগ-তত্ত্বের পাঁচজন বামহাতি খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে দলে যুক্ত হন। তবে, এ পরীক্ষাটি তেমন ফলপ্রসূ হয়নি।

১৯৫৫ সালে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৩ আগস্ট, ১৯৫৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল এ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত ১৫ ও দলীয় ৪৩/০ থাকা অবস্থায় রিটায়ার্ড হার্ট হন। তবে, দলের সংগ্রহ ৫৯/২ থাকাকালে পুণরায় মাঠে ফিরে আসেন। খেলায় তিনি ১৭ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে পিটার হেইনের শিকারে পরিণত হন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ৯২ রানে পরাজিত হলে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। এমজে ইকিন নামীয় সন্তানের জনক ছিলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে স্টাফোর্ডশায়ারের বিগনল এন্ড এলাকায় ৬৬ বছর ১৯২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    বেন কারেন

    ৭ জুন, ১৯৯৬ তারিখে নর্দাম্পটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটপ্রেমী পরিবারের সন্তান। পিতা কেভিন কারেন জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। অপর ভ্রাতৃদ্বয় – স্যাম কারেন ও টম কারেন ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুম…

  • | |

    ক্রিস কেয়ার্নস

    ১৩ জুন, ১৯৭০ তারিখে মার্লবোরার পিকটনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পাশাপাশি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে ডানহাতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে বিপজ্জ্বনক মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। তাঁর…

  • |

    বাপু নদকর্ণী

    ৪ এপ্রিল, ১৯৩৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আন্ডারওয়্যারের পরিবর্তে কটিবস্ত্র পরিধান করতেন। ফলশ্রুতিতে, মহাত্মা গান্ধী’র ব্যবহৃত বস্ত্রের অনুসরণে ‘বাপু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ভারত দলে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন।…

  • | | |

    বিল লরি

    ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার থর্নবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খেলাধূলাপ্রিয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন। ১৯৪৯ সালে প্রেস্টন টেকে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালীন বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি তিনি তুলে ধরেছিলেন। ১১ বছর বয়সে বিজ্ঞান…

  • |

    হ্যারি মাসগ্রোভ

    ২৭ নভেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে সারের সারবিটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।…

  • | | |

    অরবিন্দ ডি সিলভা

    ১৭ অক্টোবর, ১৯৬৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। পিতা স্যাম তাঁর উপযোগী বিদ্যালয় খুঁজে বের করতে বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। অবশেষে ডিএস সেনানায়েকে কলেজ আরআইটি অ্যালিসের অধ্যক্ষকে প্রথম গ্রেডে ভর্তি করাতে সক্ষম হন। খুব…