|

রেজি ডাফ

১৭ আগস্ট, ১৮৭৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বোটানিক গার্ডেন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ১৯০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯০২ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দশ নম্বর অবস্থানে খেলতে নামেন। এ অবস্থানে থেকে দশ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০৪ রানের শতক হাঁকানোর কৃতিত্বের অধিকারী হন। পরবর্তীতে, বাংলাদেশের আবুল হাসান ২০১২ সালে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দশ নম্বর অবস্থানে শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, তৃতীয় অস্ট্রেলীয় হিসেবে অভিষেকে শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্বের অধিকারী হন। মূলতঃ সম্মুখসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। কিন্তু, পোতানো উইকেটের কারণে তিনি নিচেরদিকে খেলতে নামেন। এ পর্যায়ে অপর অভিষেকধারী ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের সাথে শেষ উইকেট জুটিতে ১২০ রান সংগ্রহ করেন। ২২৯ রানে জয় তুলে নিয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে।

তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময়ে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। নতুন শতাব্দীতে এসে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানরূপে উপস্থাপিত হয়েছিলেন। তিনটি বাদে সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯০২ সালের শরৎকালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঐ তিন টেস্ট খেলেন।

১৯০২-০৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১১ অক্টোবর, ১৯০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৬০ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৮২* ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

টেস্টগুলো থেকে ৩৫.৫৯ গড়ে দুই শতক সহযোগে ১৩১৭ রান তুলেছিলেন। এ পর্যায়ে তিনি কোন শূন্য রানের সন্ধান পাননি। মাঝে-মধ্যে মিডিয়াম-পেস বোলিং করে ২১.২৫ গড়ে চার উইকেট দখল করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দশটি শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। ৩৫.০৪ গড়ে ৬৫৮৯ রান তুলেন। এছাড়াও, ৭৩ ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

১৯০২ ও ১৯০৫ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯০৫ সালে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। এ সফরে ২০.১৯ গড়ে ১২১ উইকেট পেয়েছিলেন। উভয় সফরেই সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। আর একটি শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ১৪ আগস্ট, ১৯০৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টে একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৬ রান তুলেন। এছাড়াও, ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। উইজডেনে মন্তব্য করা হয় যে, তিনি দ্বিতীয় সফরের পর আর নিজেকে পূর্বের ন্যায় খেলতে পারেননি। এরপর, আরও দুই মৌসুম খেলে ৩০ বছর পূর্তির পূর্বেই প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে বিদেয় নেন।

অত্যধিক মদ্যপানের কারণে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ১৯০৮ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর তাঁর দ্রুত স্বাস্থ্যহানী ঘটতে থাকে। অতঃপর, ১৩ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট লিওনার্ডস এলাকায় মাত্র ৩৩ বছর ১১৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | | |

    পিটার মে

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে বার্কশায়ারের দ্য মাউন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন গড়নের অধিকারী ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংরেজ ক্রিকেটে চাকচিক্য আনয়ণে স্বর্ণালী সময়ে নিয়ে আসতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষীয় অস্ট্রেলীয় রিচি বেনো’র…

  • |

    ইমতিয়াজ আলী

    ২৮ জুলাই, ১৯৫৪ তারিখে ত্রিনিদাদের মারাভাল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৭৬…

  • | | |

    ডেভ গিলবার্ট

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডার্লিংহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে সিডনি প্রথম গ্রেডে প্রথমবারের মতো খেলেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | |

    মার্ক ডেকার

    ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ম্যাশোনাল্যান্ডের গাটুমা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খাঁটিমানসম্পন্ন শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ও কভার অঞ্চলে চমৎকার ফিল্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনায় সচেষ্ট ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ…

  • | | |

    এইচডিজি লেভসন গাওয়ার

    ৮ মে, ১৮৭৩ তারিখে সারের টিটসি প্লেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এমসিসি, সারে ও স্কারবোরা উৎসব ক্রিকেটে পঞ্চাশ বছরের অধিক সময় জড়িত ছিলেন। একাধারে তিনি ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক, দল নির্বাচক ও আইনপ্রণেতা ছিলেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রেইগেটের লিবারেল এমপি…

  • |

    এস বদ্রিনাথ

    ৩০ আগস্ট, ১৯৮০ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৬-১৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস,…