|

পল পার্কার

১৫ জানুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে রোডেশিয়ার বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘পর্কি’ কিংবা ‘পলি’ ডাকনামে ভূষিত পল পার্কার ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কলিয়ার্স গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজের সেন্ট ক্যাথরিন্স কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও সাসেক্স এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরূপে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের শুরুটা বেশ নাটকীয় ছিল। ০, ১৬, ৮, ৮ ও ২ রান সংগ্রহের পর এসেক্সের বিপক্ষে ২১৫ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন। এরপর, জোড়া শূন্য রানের সন্ধান পান। পরবর্তীতে, ৪০ ও ১৪৮ রান তুলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর ব্লু লাভ করেন। তবে, আঘাতের কারণে রাগবি থেকে কমপক্ষে একটি ব্লু যোগ করতে পারেননি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। সাসেক্সের অধিনায়কত্ব করে বেশ প্রশংসা কুড়ান।

১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ড দলে অগণিত একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম দূর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। বিনোদনধর্মী ও সঠিক মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। স্পিনের বিপক্ষে দারুণ খেলতেন ও উইকেটে দ্রুত লয়ে রান তোলার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। এ সকল গুণাবলীর কারণে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকই তাঁকে কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন।

১৯৮১ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র একটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে কিম হিউজের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ আগস্ট, ১৯৮১ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডেনিস লিলি’র ক্ষুরধার বোলিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খুব কম ক্রিকেট বিশ্লেষকই তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন শেষ হবার কথা ধারনা করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

বিস্ময়করভাবে পরবর্তী শীতকালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সফর করা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়। তবে, এরপর থেকে খেলায় ছন্দপতনের ফলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির বাইরে চলে যান। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর টনব্রিজে শিক্ষকতা পেশায় মনোনিবেশ ঘটান।

সম্পৃক্ত পোস্ট