৬ ফেব্রুয়ারি, ১৮৭৩ তারিখে মেলবোর্নের অ্যাবটসফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে স্লো বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৮৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত অ্যাডোল্ফাস হেনরি ট্রট ও ইংরেজ রমণী মেরি অ্যান দম্পতির সন্তান ছিলেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা জর্জ হেনরি স্টিভেন্স ট্রটের সাথে একত্রে স্থানীয় ক্যাপুলেট জুনিয়র ক্লাবে খেলতে শুরু করেন।
‘আল্বাট্রট’ ডাকনামে পরিচিত ‘আলবার্টো ট্রট’ অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড – উভয় দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে হকস বে’র প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ১৯১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। লর্ডস প্যাভিলিয়ন ছাঁপিয়ে ছক্কা হাঁকার কারণে তুমুল সুনাম কুড়ান।
১৮৯৫ থেকে ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটি ও ইংল্যান্ডের পক্ষে দুই টেস্ট খেলেছিলেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। জন হ্যারি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তাঁর অভিষেক পর্বটি বেশ স্মরণীয় ছিল। এছাড়াও, স্বীয় ভ্রাতার সাথে একত্রে খেলেন। অপরাজিত ৩৮ ও অপরাজিত ৭২ রান সংগ্রহের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে দৃশ্যতঃ বোলিং অপরিবর্তিত রেখে ৮/৪৩ পেয়েছিলেন। এরফলে, ইংল্যান্ডের পরাজয় অবধারিত হয় ও স্বাগতিকরা ৩৮২ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। তিন টেস্ট থেকে ১০২.৫০ গড়ে রান পেয়েছিলেন।
খুব শীঘ্রই ভ্রাতৃদ্বয়ের খেলোয়াড়ী জীবন ভিন্নদিকে প্রবাহিত হতে থাকে। ১৮৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে হ্যারি ট্রট অধিনায়কত্ব করেন ও ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে ৪-১ বিজয়ে নেতৃত্ব দিলেও তিনি পূর্বোক্ত সফরে বাদ পড়েন। তবে, একই জাহাজে চড়ে ইংল্যান্ডে নিজের কর্মজীবন সম্পাদনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। লর্ডসে হ্যারি তাঁর নিজের সর্বোচ্চ ১৪৩ রান তুলেন। অপরদিকে তিনি মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন ও মিডলসেক্সের পক্ষের খেলার সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন।
১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। এ সফরে টেস্টগুলো থেকে ৫.৭৫ গড়ে ২৩ রান ও ১১.৬৪ গড়ে ১৭ উইকেট পেয়েছিলেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিন টেস্টে অংশ নেয়ার পর ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬১ ও ৫/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩২ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১ এপ্রিল, ১৮৯৯ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬৯ ও ৪/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২১০ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ওজন বৃদ্ধির কারণে তাঁর কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবন পড়তির দিকে থাকে। ১৯০৭ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। সমারসেটের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে চার বল থেকে চার উইকেট লাভ করেছিলেন। এরপর, আরও একবার হ্যাট্রিক পেয়েছিলেন। ১৯১০ সালে কাউন্টি খেলোয়াড় হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
১৮৯৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৩০ জুলাই, ১৯১৪ তারিখে মিডলসেক্সের উইলসডেন গ্রীন এলাকায় গুলিতে মাত্র ৪১ বছর ১৭৪ দিন বয়সে আত্মহননে অগ্রসর হন। উইলসডেন সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
