|

গুন্দিবেল সুন্দরম

২৯ মার্চ, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কর্ণাটকের উদুপিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

মিডিয়াম পেসার ছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। বোম্বে দলের পর রাজস্থানের পক্ষে খেলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে সফররত পাকিস্তানী একাদশের বিপক্ষে ৪/৩১ নিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। পরবর্তী গ্রীষ্মে আল্ফ গোভার্স স্কুলে প্রশিক্ষণ নেন। শুরুতে সফলতা লাভসহ টেস্ট ক্যাপ লাভ করলেও বোম্বে দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। এরফলে, রাজস্থানের পথে ধাবিত হন।

সীমিত খেলায় অংশ নিলেও ঠিকই নিজেকে যথাযথভাবে মেলে ধরতে সোচ্চার ছিলেন। নতুন বল নিয়ে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজে লালা অমরনাথ দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন। অনেক তরুণ খেলোয়াড়দেরকে খেলার সুযোগ দেন। আটজন নতুন খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন তিনি।

১৯৫৫ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে দিল্লির কোটলায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। বাপু নদকর্ণী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। বার্ট সাটক্লিফজন আর রিড ভারতীয় বোলারদের নাস্তানুবাদ করে ছাড়েন। নিউজিল্যান্ড দল ৪৫০/২ তুলে ইনিংস ঘোষণা করলেও তিনি ঐ দুই উইকেটের একটি করায়ত্ত্ব করেন। ৩৯ ওভার বোলিং করে ১/৯৯ পান। এছাড়াও, ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

এরপর তিনি আর একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। একই সফরের ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয় – গর্ডন লেগাট ও জন আর রিডকে বিদেয় করেন। ২১ ওভারে ২/৪৬ পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরফলে, ৫৫ গড়ে ৩ উইকেট নিয়ে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৬ গড়ে ১২৭ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় দুইবার বোম্বে ও পাঁচবার রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। ৬/৬৪ ও ৪/৫৪ নিয়ে বিদর্ভকে প্রায় একাই গুটিয়ে দেন। ১৯৬০-এর দশকে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় রাজস্থান দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। মাকারন্দ বাইগাঙ্কর টাইমস অব ইন্ডিয়ায় মন্তব্য করেন যে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্রাতিরিক্ত বোলিংয়ের কারণে বিরূপ প্রভাব ফেলে। শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েন ও টেস্টে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান প্রদীপ রাজস্থানের পক্ষে খেলেছে। ২০ জুন, ২০১০ তারিখে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে ৮০ বছর ৮৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    কেনরয় পিটার্স

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাড়ার ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ২০০০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড…

  • |

    নেভিল টাফনেল

    ১৩ জুন, ১৮৮৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের সিমলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিং করতে পারতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। কার্লটন ও লরা টাফনেল দম্পতির চার পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে তিনি দ্বিতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে, ভ্রাতাদের সাথে তিনিও…

  • | |

    হেনরি উড

    ১৪ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৬ থেকে ১৯০০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, সারে…

  • | |

    বেঙ্কটেশ প্রসাদ

    ৫ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটক দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভারতের জ্যেষ্ঠ দলীয়…

  • |

    জিম ম্যাককোনন

    ২১ জুন, ১৯২২ তারিখে কো ডারহামের বার্নপফিল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও ফুটবলার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৬১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তুলনামূলকভাবে বেশ দেরীতে ২৮…

  • |

    বব নিউসন

    ২ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সী পয়েন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৪৯-৫০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব…