২৪ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে নাটাল প্রদেশের ডারবান এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
সহজাত প্রকৃতির খেলোয়াড়ের চেয়েও নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। সিম বোলার ছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার হিসেবেই নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। নিজের সেরা দিনগুলোয় কার্যকরী ব্যাটসম্যান হিসেবে জাহির করতে সচেষ্ট ছিলেন। তবে, ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। মাঝে-মধ্যে ইনিংস উদ্বোধনে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন।
পিতা বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেললেও বেশীদূর নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। শিশু অবস্থাতেই পরিবারটি রোডেশিয়ায় চলে যায়। এখানেও তাঁরা বেশীদিন থাকেননি। বুলাওয়েতে পিতা চাকুরী পান ও মাতা খামারে কাজ করতে। আবারও তাঁরা মুতারেতে চলে যান। এখানে থাকাকালীন ক্রিকেট খেলায় হাতেখড়ি ঘটে। মুতারে জুনিয়র স্কুলে অধ্যয়ন করতেন। এ পর্যায়ে সারে ও পেশাদার রোডেশীয় রবিন জ্যাকম্যান দেশের সর্বত্র বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ দিতেন। মুতারে জুনিয়র স্কুলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে প্রভাবান্বিত হন এবং স্টিভ লসন ও ডিওন ইয়েট্রাসের সাথে একযোগে অংশ নেন।
শুরু থেকেই অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগেই উদ্বোধনে নামতেন। পরবর্তীকালেও একই ধারা বহমান রেখেছিলেন। রুসাপেতে বিদ্যালয় প্রথম একাদশের প্রথম খেলায় অংশ নেন। অপরাজিত অর্ধ-শতরানসহ ৮/১৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।
ঈগলসভেল হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৫ দল ফনসে খেলার দুই বছর পর জিম্বাবুয়ের বিদ্যালয় দলে খেলার সুযোগ পান। অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রিন্স এডওয়ার্ড দলে খেলেন। প্রতিপক্ষীয় ফাস্ট বোলারদের রুখে দিয়ে পনের ওভারের মধ্যে প্রথম উইকেটে স্টিভ লসনের সাথে ১৫০ রানের জুটি গড়েছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ের বিপর্যয় ঘটে দল পরাজিত হয়েছিল। এছাড়াও, বিদ্যালয়ের পক্ষে জোড়া শতক ও জোড়া হ্যাট্রিকের সন্ধান পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, ক্রানবোর্ন স্কুলের বিপক্ষে ২০ রান খরচায় ইনিংসের সবকটি উইকেট লাভ করেছিলেন।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মনিকাল্যান্ড ও ম্যাশোনাল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৭ বছর বয়সে হারারে স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে খেলতে থাকেন। তবে, প্রথম চার কিংবা পাঁচটি খেলার কোনটিতেই ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। ওল্ড জর্জিয়ান্সের অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের উদ্দীপনায় দলে যুক্ত হন। মনিকাল্যান্ডের উত্থানে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৯৬ সালে মুতারেতে প্রত্যাবর্তনকালে ঐ প্রদেশের ক্রিকেটে স্থবিরতা বিরাজমান ছিল। স্বীয় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে উদ্যম নিয়ে দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে সোচ্চার হন ও পরবর্তীতে লোগান কাপ প্রতিযোগিতায় অধিনায়কের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন।
বিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর রোডস বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক বাণিজ্য শ্রেণীতে অধ্যয়ন করতে থাকেন। এরফলে, ইস্টার্ন প্রভিন্সের ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। বার্মিংহামে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের সহায়তায় ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা আর সম্পন্ন করতে পারেননি। ঐ সময়েও নিজেকে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের উপযোগী হিসেবে মনে করেননি। তবে, অন্যদের উৎসাহে ক্রিকেটে মনোনিবেশের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগের অনুমিতপ্রাপ্ত হন। তবে, তিনি ইংল্যান্ডে যাননি। ভবিষ্যতের পত্নীর সাথে পরিচিত হন ও তরুণ বয়সেই বিয়ে করেন। এছাড়াও, হারারের গার্ডিনি এন্ড সন্স নামীয় আবাসন শিল্পে চাকুরী পান। এরপর গার্ডিনির সরবরাহকারী টিএস টিম্বার্সে যুক্ত হন। উভয় প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন ক্রিকেট খেলায়ও অংশ নিতেন।
অনূর্ধ্ব-২৫ স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়ে অনেকগুলো সফরে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ১৯৮৯ সালে জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-২৫ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। কয়েক বছর পূর্বে ঈগলসভেল দলের সাথে অর্জিত অভিজ্ঞতার সেঁতুবন্ধন ঘটান। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে ‘বি’ দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ‘বি’ দলের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তবে, তিনি তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। পরের বছর অস্ট্রেলিয়া ‘বি’ দলের বিপক্ষে খেলেন। জিম্বাবুয়ের ইতিহাসের প্রথম টেস্টের পূর্বে এটিই তাঁর একমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অল-রাউন্ডার হিসেবে জিম্বাবুয়ে দলে অন্তর্ভুক্তিতে প্রয়াস চালান। ৩ মার্চ, ১৯৯২ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ওল্ড গ্রিগোরিয়ান্সের পক্ষে গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। ঐ মৌসুমে ৫০-এর অল্প কম গড়ে রান পান। এছাড়াও, বোলিং গড়ে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্থানে ছিলেন ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী ছিলেন। এরফলে, ঐ প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে খেলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেন। চার খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা শচীন তেন্ডুলকর ও ডিন জোন্সের উইকেট পেয়েছিলেন।
এর পরপরই ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে জন ট্রাইকোস ব্যতীত অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রবি শাস্ত্রীকে বিদেয় করে জিম্বাবুয়ের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ঐ ইনিংসে তিনি ৩/৭৮ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।
এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুই টেস্টে অংশ নিলেও আর কোন উইকেট নিজের নামের পার্শ্বে যুক্ত করতে পারেননি। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৭ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। স্বাগতিকরা ১৭৭ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। খেলায় ৪৫ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০* ও ১৭* রান সংগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের অ্যালবারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নমূখী রানের খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের বিজয়ের ন্যায় সেরা অঘটনের নেপথ্যে অবস্থান করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। গ্রুপ পর্বের ঐ খেলায় দল মাত্র ১৩৪ রানে গুটিয়ে গেলেও ৯ রানের নাটকীয় জয় তুলে নেয়।
পিঠের আঘাতের কারণে পরবর্তী দুই মৌসুমে কোন বোলিং করতে পারেননি। এরপর, খেলায় ছন্দ ফিরে পেলেও আর দল নির্বাচকমণ্ডলীর মন জয় করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর গল্ফার পুত্র ডিনের ব্যাগ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, আসবাবপত্র প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ব্যবস্থাপকের কাজে নিয়োজিত আছেন।
