| |

কেনিয়া জয়ন্তীলাল

১৩ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে মঈন-উদ-দৌলা গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। হায়দ্রাবাদ ব্লুজের সদস্যরূপে বাজির সুলতান টোব্যাকো কোল্টস একাদশের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব নিয়ে ৭১ রান তুলেন।

পরের মৌসুমে কেরালার বিপক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে অভিষেক ঘটে তাঁর। দেবরাজ গোবিন্দরাজের বোলিং তোপে অতিথি দল ৮৫ রানে গুটিয়ে গেলে তিনি ১৫৩ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ওয়াহিদ ইয়ার খানের সাথে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২৫৮ রান যুক্ত করেন। দলীয় অধিনায়ক এমএল জয়সীমা ৩১৬ রানে দলের ইনিংস ঘোষণা করলে দেবরাজ গোবিন্দরাজ আবারও পাঁচ-উইকেট নিয়ে হায়দ্রাবাদের ইনিংস বিজয় নিশ্চিত করেন।

পরবর্তী দুই মৌসুমও একই ধারাবাহিকতাপূর্ণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছিলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, ১৯৭০-৭১ মৌসুমে ইরানী ট্রফিতে বাদ-বাকী ভারত দলের সদস্যরূপে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়। বোম্বে দল ৪১৮ রান তুলে। হেমন্ত কানিতকরের সাথে ৭৭ রানের জুটি গড়েন। ৪৯ রান তুলে বিদেয় নেন। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে বোম্বে দল বিজয়ী হয়। দুই খেলা পর প্রায় একাকী পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৩৪ রান তুলেন তিনি। পুরো খেলায় অন্য কেউ ৬৫ রান তুলতে পারেনি।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কাল পর্যন্ত নিজ রাজ্য হায়দ্রাবাদের নির্ভরযোগ্য তারকা খেলোয়াড় ছিলেন। রঞ্জী ট্রফিতে দলের সফলতায়ও বিরাট ভূমিকা রাখেন। নিখুঁতমানের প্রতিরক্ষাব্যূহ তৈরী করে পিছনের পায়ের উপর ভর করে স্ট্রোক খেলতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আট শতক সহযোগে ৩৬.৩৩ গড়ে ৪৬৮৭ রান সংগ্রহ করেছেন। তন্মধ্যে, রঞ্জী ট্রফিতে ৪৪ খেলা থেকে ৪০.৪০ গড়ে ২৩৮৪ রান পেয়েছেন। শতরানের চারটিই দূর্বলতর কেরালা দলের বিপক্ষে করেছেন। এ দলটির বিপক্ষেই সর্বাধিক সফল ছিলেন। ৯ খেলা থেকে ৯৭.৬২ গড়ে ৭৮১ রান তুলেছেন।

১৯৭১ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে অজিত ওয়াড়েকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পোচিয়া কৃষ্ণমূর্তি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ০-০ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

একটিমাত্র টেস্ট খেলার পর দল থেকে বাদ পড়েন ও সুনীল গাভাস্কার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের কালগর্ভে নিপতিত হয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে।

‘সানি ডেজে’ বর্ণিত রয়েছে যে, ‘জয়ন্তীলাল শেষ মুহূর্তে ব্যাট সরিয়ে নেন। কিন্তু বলটি ব্যাট স্পর্শ করে ও বিদ্যুৎগতিতে সেকেন্ড ও থার্ড স্লিপে চলে যায়। বুক বরাবর অবস্থানে গ্যারি সোবার্স বলটি তালুবন্দী করে বিজয়ের হাসি হাসেন। আমি কাউকে বলেছিলাম যে দূর্দান্ত ক্যাচ ছিল। রোহন কানহাই আমার সুইপ শট তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন ও আমার যাত্রা শুরু হয়।’ পরবর্তীতে দ্য হিন্দুতে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে, ‘সন্দেহাতীতভাবে দারুণ ক্যাচ ছিল। কিন্তু, আমার জন্যে তীব্র আঘাতস্বরূপ।’ সব মিলিয়ে শুধুমাত্র এ ব্যর্থতার ফলেই তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটেনি। বাজে ফিল্ডিংয়ের বিষয়টিও এতে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। গোয়া, বিদর্ভ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং মালয়েশিয়া দলকে প্রশিক্ষণ দেন। ২০০৬ সালে অর্রা ও কিয়া কর্তৃপক্ষ কার্শন ঘাব্রিসহ তাঁর সাহায্যার্থে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে প্রীতি খেলার আয়োজন করে। এছাড়াও, বোম্বের জিমখানায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে বিনে পয়সায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

Similar Posts

  • |

    আরিফুল হক

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। মাঝারিসারিতে নিচেরদিকে ডানহাতে মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে যথেষ্ট দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে অংশ নেন। অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য ছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    শাব্বির আহমেদ

    ২১ এপ্রিল, ১৯৭৬ তারিখে পাঞ্জাবের খানেওয়াল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ছিলেন। অন্যান্য পাকিস্তানী ফাস্ট বোলারের তুলনায় তিনি ব্যতিক্রম ছিলেন। প্রাণহীন উইকেটেও সজীব বোলিং করতেন। স্ট্যাম্পের…

  • |

    সুরু নায়েক

    ২০ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতি মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নীচেরসারির কার্যকর ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি চমৎকার ফিল্ডার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    নেড গ্রিগরি

    ২৯ মে, ১৮৩৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়াভার্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমার অধিকারী ব্যাটসম্যান ছিলেন। ‘লায়ন-হার্টেড নেড’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের শুরুরদিকে বড় ধরনের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ন্যাশনাল, ইস্ট সিডনি ও বাথহার্স্ট ক্রিকেট ক্লাবে খেলেছেন। ১৮৬২-৬৩…

  • |

    চার্লি স্মিথ

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৮৭২ তারিখে কেপ কলোনির গ্যামটুস রিভার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, কার্যকর বোলিং করতেন। ১৯০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    মনোজ প্রভাকর

    ১৫ এপ্রিল, ১৯৬৩ তারিখে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৪ থেকে…