|

মাইকেল ম্যাসন

২৭ আগস্ট, ১৯৭৪ তারিখে ওয়াইরারাপার কার্টারটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরদিকে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

প্রচণ্ড পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে জাতীয় দলে খেলার উপযোগী করে তুলেন। প্রায়শঃই তাঁকে দীর্ঘ সময় জুড়ে বোলিং করতে দেখা যেতো। তবে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে মাঝে-মধ্যে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ক্রমাগত আঘাতের কবলে পড়তেন ও স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতো। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে মনেপ্রাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

২০০৩ থেকে ২০১০ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ২৬টি ওডিআই ও তিনটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে প্রবেশ করেন। কিউইদের ১৩৩তম খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪/২৪ পান ও দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন।

২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট খেলতে নিউজিল্যান্ড দলে যুক্ত হন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন ও উভয় ইনিংস থেকে মাত্র তিন রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ০/৭৩ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্যাট হাতে ৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে ঐ খেলায় তাঁর দল ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর একমাত্র টেস্টে পরিণত হয়।

২৬ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। একটি উইকেটের সন্ধান পান ও তিন ওভার থেকে ১৯ রান খরচ করেছিলেন। একসময় জন ব্রেসওয়েল তাঁকে দেশের সেরা নিখুঁতমানের বোলার হিসেবে চিত্রিত করেছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কয়েকটি ওডিআইয়ে বেশ সাড়া জাগিয়ে নিজের দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এসেক্সের বিপক্ষে তিন উইকেট লাভ করেন ও ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু এর পরপরই তাঁকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়। ২০১০ সালে আবারও তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হলেও কিছুকাল পরই আবারও তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননি ও প্রায়শঃই ঘরোয়া ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলতেন। অতঃপর, ৩৭ বছর বয়সে ২০১২ সালে অকল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে জয় এনে দেয়ার পর ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

Similar Posts

  • | |

    জর্জ হ্যাডলি

    ৩০ মে, ১৯০৯ তারিখে পানামার কোলনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পানামার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম। ১৯১৯ সালে মাতা তাঁর জন্মস্থান জ্যামাইকায় তাঁকে প্রেরণ করেন। তাঁকে ইংরেজী ভাষী বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর হয়। সেখানেই…

  • | |

    জন রিড, ১৯৫৬

    ৩ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাশাপাশি, উইকেট-রক্ষণেও মাঝে-মধ্যে অংশ নিতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অকল্যান্ডের অন্যতম ও নিউজিল্যান্ডের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছেন। তবে, জন আরের চেয়ে তিনি অধিক পরিচিতি লাভ করেননি।…

  • | |

    ক্লেম হিল

    ১৮ মার্চ, ১৮৭৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হিন্ডমার্শ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিবারের ১৬ সন্তানের অন্যতম ছিলেন। পিতা এইচ. জে. হিল অ্যাডিলেড ওভালে প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা…

  • |

    জর্জ থমস

    ২২ মে, ১৯২৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফুটসক্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সব মিলিয়ে ১৯টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তিন শতক…

  • |

    শ্রীকর ভরত

    ৩ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ক্যাপিটালস, গুজরাত টাইটান্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩…

  • |

    মনোহর হার্দিকর

    ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…