|

ডেন ভিলাস

১০ জুন, ১৯৮৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেন। ২০১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘ভিলি’ ডাকনামে ভূষিত ডেন ভিলাস ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড প্রিপাইরেটরিতে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে পড়াশুনো করেন। প্রতিভাবান উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ, গটেং ও লায়ন্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স ও সাউথ ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে খেলেছেন।

১২ অক্টোবর, ২০০৬ তারিখে ব্লোমফন্তেইনে ফ্রি স্টেট বনাম গটেংয়ের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম মৌসুমেই ব্যাট হাতে সাড়া জাগান ও প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০৯ সালে সুপারস্পোর্ট সিরিজের খেলায় লায়ন্সের সদস্যরুপে টাইটান্সের বিপক্ষে নিজেকে বয়সের চেয়েও এগিয়ে রাখেন। প্রায় সাত ঘণ্টা ব্যয় করে ২৯৫ বল থেকে ২০৩ রান তুলেন। ২৫ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে লায়ন্সের পক্ষে টি২০ খেলায় প্রথম অংশ নেন। নয় ইনিংস থেকে প্রায় ৪০ গড়ে রান তুলে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। ব্যাট হাতে স্বীয় সক্ষমতা ও স্ট্যাম্পের পিছনে কর্তৃত্বের কারণে ২০১১ সালে কেপ কোবরাজ দলে যুক্ত হন।

২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ৩০ মার্চ, ২০১২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েকে ঘিরে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। কিন্তু, নিয়মিত অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স গ্লাভস হাতে নিলে তাঁর সুযোগ নষ্ট হয়।

২০১৫-১৬ মৌসুমে হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, চারদিন বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হয় ও সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪০ ঊর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহ করেছেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ প্রথম-শ্রেণীর সাফল্য টেস্ট ক্রিকেটে প্রবাহিত করতে পারেননি। টেস্টে ব্যাট হাতে মাত্র ১০ ঊর্ধ্ব গড়ে রান পেয়েছেন। উদীয়মান কুইন্টন ডি ককের উত্থানে তাঁর টেস্ট দলে খেলার সুযোগ কমে আসে।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যালাস্টেয়ার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৫ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৬ ও ৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্টুয়ার্ট ব্রডের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০২১ মৌসুমকে ঘিরে ল্যাঙ্কাশায়ারের অধিনায়ক ও বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে তাঁর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এরপূর্বে ২০১৯ সালে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। কোলপ্যাক খেলোয়াড়ের মর্যাদা শেষ হবার ফলে এ চুক্তিতে উপনীত হতে হয়। ২০১৭ সালে রেড রোজের সাথে প্রথম যোগ দেন। দ্বিতীয় বিভাগে দলের অবনমন ঘটলে এক মৌসুম দলের নেতৃত্বে থাকা উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান লিয়াম লিভিংস্টোনের স্থলাভিষিক্ত হন। দুই মৌসুম পরই ২০১৯ সালে দলের পূর্ণাঙ্গকালীন অধিনায়কত্ব পান। দলটিকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে উত্তরণ ঘটান।

বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে ২০০৮ সালে ‘হ্যান্সি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হান্সি ক্রোনিয়ে’র জীবনীকে ঘিরে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে।

Similar Posts

  • |

    জনি লিন্ডসে

    ৮ সেপ্টেম্বর, ১৯০৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের বার্কলি ইস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভাল ও নর্থ ইস্টার্ন ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    বাকা জিলানী

    ২০ জুলাই, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট উচ্চতার দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। লেগ-ব্রেক ও মিডিয়াম-পেস লেগ-কাটার সহযোগে বোলিং করতেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত…

  • | | |

    রুমেশ রত্নায়েকে

    ২ জানুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রেফারি। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮২…

  • |

    গেভিন ব্রায়ান্ট

    ১১ এপ্রিল, ১৯৬৯ তারিখে সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, কভার অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন ও ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এক মৌসুম ওরচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশের সদস্য ছিলেন। এরপর, ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে ‘বি’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড ‘এ’…

  • |

    অজয় শর্মা

    ৩ এপ্রিল, ১৯৬৪ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন ও স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ২০০০-০১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও হিমাচলপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব…

  • |

    ডেল হ্যাডলি

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের রিকার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার ছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পেস বোলিং করতেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিং না করলেও ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হতেন। এছাড়াও, বলকে সুইং করাতে পারতেন। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পারতেন না। ক্রমাগত পিঠের আঘাতের…