|

জুনায়েদ সিদ্দিকী

৩০ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে থাকেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে বেশ উঁচুতে ব্যাট তুলে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। তামিম ইকবালের সাথে ব্যাটিংয়ে নেমে আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিতেন। নিজস্ব ঘরানায় নিশ্ছিদ্র পন্থা অবলম্বনে রান তুলতেন। তবে, ওডিআইয়ে এ ছন্দ ফিরে পাননি।

তাঁর পূর্ব-পুরুষ পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত। শিয়ালকোটে তাঁরা বাস করতেন। ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ‘ইমরোজ’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চল ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ও রংপুর রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ১০ ডিসেম্বর, ২০০৩ তারিখে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগের সদস্যরূপে রাজশাহী বিভাগের মোকাবিলা করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ও দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

২০০৭ থেকে ২০১২ সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে সব মিলিয়ে ১৯ টেস্ট, ৫৪টি ওডিআই ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে ৩০-সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। তবে, চূড়ান্ত দলে ঠাঁই পাননি। ২০ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় খেলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ দলের সদস্য হন।

২০০৭-০৮ মৌসুমে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

অভিষেক টেস্টে ইতিবাচক খেলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ৪ জানুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সিরিজে প্রথম টেস্টে অংশ নেন। সাজিদুল ইসলাম ও তামিম ইকবালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭৪ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দেন। অবশ্য প্রথম ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিক দল নয় উইকেটে জয় তুলে নেয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

ফিরতি সিরিজেও নিউজিল্যান্ড দলকে বেশ বেগ পাইয়ে দেন। ৮৫ রানের ইনিংস খেলে দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। তবে, এরপর থেকে বিশেষ করে ওডিআইয়ে রান খরায় ভুগতে থাকেন। শর্ট বল মোকাবেলায় বেশ দূর্বলতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে স্টুয়ার্ট ব্রডের ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ হিমশিম খান। তবে, মার্চ, ২০১০ সালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে এ দূর্বলতাকে উপেক্ষা করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকিয়েছিলেন।

২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। তবে, রান খরায় ভুগেছিলেন। ৬ খেলায় অংশ নেন ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৭ রান তুলেন। টেস্টেও ছন্দহীনতার কবলে পড়েন। ১৩ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের পর দল থেকে বাদ পড়েন। সফরকারীরা ৭৭ রানে জয় তুলে নেয়। ৭ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

এনামুল হকের উত্থানে তাঁর দলে ফিরে আসার সুযোগ আরও স্তিমিত হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ৯ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক টি১০ লীগ খেলার জন্যে মনোনীত হন। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত মার্থা এরাবিয়ান্সের পক্ষে খেলেন। এরফলে, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের পর তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এ প্রতিযোগিতায় যোগ দেন।

Similar Posts

  • |

    আহমেদ শেহজাদ

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৯১ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। প্রতিভা সর্বদাই সফলতার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে আরও ঝালাই করে নিতে তৎপরতা দেখিয়েছেন। এক দশকের অধিক সময় পর পাকিস্তান দলে তাঁর ন্যায়…

  • |

    অনিল দলপত

    ২০ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দল থেকে ওয়াসিম বারি’র অবসর গ্রহণের পর বেশ কয়েকজন উইকেট-রক্ষকের দাবীদারের অন্যতম ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • | |

    জয়সিংহরাও ঘোরপদে

    ২ অক্টোবর, ১৯৩০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পাঁচগণি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে…

  • |

    থারিন্ডু রত্নায়েকে

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে মারাভিলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। মাউন্ট লাভিনিয়াভিত্তিক সেন্ট থমাস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব,…

  • |

    জিহান মুবারক

    ১০ জানুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসিতে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খাঁটিমানসম্পন্ন দর্শনীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান। কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে মিতব্যয়ীতার স্বাক্ষর রাখেন। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে খেলছেন। তাঁর পিতা ড. এ.এম. মুবারক বিজ্ঞানী ছিলেন। শ্রীলঙ্কায়…

  • |

    ফিলিপ হিউজ

    ৩০ নভেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যাক্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি (১.৭০ মিটার) উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। গ্রেগ হিউজ ও ভার্জিন হিউজ দম্পতির সন্তান…