১১ জানুয়ারি, ১৯২৭ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
দলীয় সঙ্গীদের কাছ থেকে ‘হেব্যাগ’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘদেহের অধিকারী ছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৫৮ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের পর নিউজিল্যান্ড টেস্ট দলের শীর্ষসারির সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন। ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড দলের সাথে ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পান। এক পর্যায়ে আঘাতের কবলে পড়লে সফরের দ্বিতীয়ার্ধ্বে খেলতে পারেননি। তবে, দলের সাথে ইংল্যান্ডে অবস্থান করে অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
১৯৫০-৫১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রেডি ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অ্যালেক্স মইর ও টনি ম্যাকগিবনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮৫ লাভ করেন। পাশাপাশি, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে জেরি গোমেজের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ২/৪৪। খেলায় তিনি ৩/৫২ ও ১/২৮ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মুখোমুখি হন। সিরিজে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৮৬ রান খরচায় মাত্র ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসে জেরি গোমেজ, স্যার ক্লাইড ওয়ালকট ও ফ্রাঙ্ক ওরেলকে ৮ বলের ব্যবধানে বিদেয় করে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। খেলার এক পর্যায়ে এটি দূর্দান্ত বোলিং করেন ও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অনেকের কাছে তাঁর সেরা বোলিং হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়। অবশ্য ঐ সিরিজে তাঁর দল ১-০ ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে।
১৯৫৮ সালে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড সফরে যান। ৫ জুন, ১৯৫৮ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১৪ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৫৭ ও ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ২০৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৪ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট অংশ নেন। ব্যাট হাতে ৪ ও ৫* রান সংগ্রহ করেন। তবে, বল হাতে ৫১ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিক দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর শেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৬১ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আমদানী-রপ্তানী কাজের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। ২০০৪ সালে নিউজিল্যান্ডে মরক্কোর অনাররী কনসাল জেনারেল ছিলেন। ২৫ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে অকল্যান্ডে ৮০ বছর ৩৪৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
