১১ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খাঁটি মানসম্পন্ন ও দর্শনীয় ভঙ্গীমায় খেলতে নামতেন। ঊনিশতম জন্মদিন উদযাপনের কয়েকদিন পর নাটালের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে সফররত এমসিসি দলের বিপক্ষে ঐ খেলায় ৬ ও ৮ রানের ইনিংস খেলেন।
১৯২৪-২৫ মৌসুমে এস. বি. জোয়েলের নেতৃত্বাধীন সফররত ইংরেজ দলের বিপক্ষে তিনটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, চূড়ান্ত খেলায় ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে ব্লোমফন্তেইনে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে জে. এফ. ডব্লিউ. নিকোলসনের (২৫২*) সাথে প্রথম উইকেটে ৪২৪ রানের জুটি দাঁড় করান। অদ্যাবধি তাঁদের সংগ্রহটি টিকে রয়েছে। তিনি ১৭৪ রান তুলেছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষেও তিনি ২৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে জি. ই. চিদামের ২৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পূর্ব পর্যন্ত কারি কাপে এটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস হিসেবে টিকেছিল। তবে, পাঁচদিন পরই ই. এ. বি. রোয়ান ট্রান্সভালের সদস্যরূপে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের বিপক্ষে ২৭৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নেন।
১৯২৮ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিজ দেশে রনি স্ট্যানিফোর্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের বিপক্ষে খেলেন। ২১ জানুয়ারি, ১৯২৮ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। আর্থার অশি ও জন নিকোলসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এইচ. ডব্লিউ. টেলরের সাথে জুটি গড়েন। খেলায় তিনি ১১ ও ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এরপর, দল থেকে বাদ পড়েন।
১৯২৯ সালে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর নামি ডিনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। এ সফরে ব্যাটিং গড়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। লিচেস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে শতক হাঁকান। ৩৫.৮৮ গড়ে ১৫৭৯ রান তুলেন। আঘাতের কারণে সিরিজের দুই টেস্ট খেলতে পারেননি।
১৩ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ০ ও ১৪ রান তুলেছিলেন। ৫ উইকেটে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১৭ আগস্ট, ১৯২৯ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে পূর্বেকার সর্বোচ্চ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে বিল বোসের শিকারে পরিণত হন। স্বাগতিকরা ২৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
অনবদ্য অর্জনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার টার্ফ পিচে কারি কাপ ও টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম শতরানের ইনিংস খেলার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ডিসেম্বর, ১৯২৬ সালে ডারবানে অনুষ্ঠিত নাটালের সদস্যরূপে বর্ডারের বিপক্ষে ১১৪ রানের ইনিংস খেলেন। পরবর্তীতে, ১৯৩০-৩১ মৌসুমে কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ব্রুস মিচেলের সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে ২৬০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এটিই তাঁর একমাত্র টেস্ট শতক ছিল। এ সিরিজে প্রথমবারের মতো সবগুলো টেস্ট খেলে ৪.৬৬ গড়ে ৩৮৪ রান তুলেন।
১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে নিজ দেশে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৪৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্ল্যারি গ্রিমেটের শিকারে পরিণত হয়। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ৬ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। জেআর সিডল নামীয় সন্তানের জনক। ২৪ আগস্ট, ১৯৮২ তারিখে নাটালের বুলওয়ার এলাকায় ৭৯ বছর ২২৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন দক্ষিণ আফ্রিকার বয়োজ্যেষ্ঠ জীবিত টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন।
