| |

ফ্রাঙ্ক সাগ

১১ জানুয়ারি, ১৮৬২ তারিখে ডার্বিশায়ারের ইকেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন তিনি। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ডার্বিশায়ারে জন্মগ্রহণ করলেও শৈশবকাল ইয়র্কশায়ারে পাড় করেছেন। চমৎকারভাবে ব্যাটিং বিনোদনে অগ্রসর হতেন। বিশেষতঃ ড্রাইভ মারতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন ও স্কয়ার লেগে মারমুখী ভঙ্গীমায় অবতীর্ণ হতেন। এছাড়াও, সীমানা বরাবর বিস্তৃত এলাকায় ফিল্ডিং করতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৩ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮৩ সালে ইয়র্কশায়ার, ১৮৮৪ থেকে ১৮৮৬ সময়কালে ডার্বিশায়ার ও ১৮৮৭ থেকে ১৮৮৯ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৮৮৪ মৌসুমে ডার্বিশায়ারের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হয়েছিলেন। দলের সেরা ব্যাটধারী হলেও ঐ মৌসুমে তাঁর দল দশ খেলার সবকটিতেই পরাজিত হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত খেলায় হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ১৮৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। লাডফোর্ড ডকারের পর রান গড়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করেন। পরের বছর উইলিয়াম চ্যাটারটনের পর একই অবস্থানে থাকেন।

ডার্বিশায়ার ত্যাগ করে ১৮৮৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারে চলে যান। পাঁচ মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। সবগুলোই এ দলটিতে থেকে করেন। জেমস সাউদার্টনের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি কাউন্টির পক্ষে ক্রিকেট খেলেছেন। ১৮৯৭ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত কেন্টের বিপক্ষে ঐ খেলা থেকে £১,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং লাভ করেন।

১৮৮৮ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে পার্সি ম্যাকডোনেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। উভয় টেস্টেই স্বাগতিক দল ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করে। মাঝারিসারির নিচেরদিকে একবার করে ইনিংস খেলার সুযোগ পেয়ে ৩১ ও ২৪ রান তুলতে পেরেছিলেন।

১৩ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। হেনরি উডজন শাটারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৩৭ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

এরপর, ৩০ আগস্ট, ১৮৮৮ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ২১ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এছাড়াও, বেশ কয়েকবার প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে খেলেছেন।

১৮৯০ সালে উইজডেন কর্তৃক নয়জন বর্ষসেরা ব্যাটসম্যানের অন্যতম হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ছিলেন। পাঁচটি ফুটবল ক্লাবে খেলেছিলেন।

পেশায় আইনজীবি ছিলেন। ১৮৮১ সালে বিধবা মাতার সাথে নেদার হলম এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ওয়াল্টার সাগ ১৮৮১ থেকে ১৯০২ সময়কালে ডার্বিশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা পরিচালনা করেছেন। ২৯ মে, ১৯৩৩ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়াটারলু এলাকায় ৭১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জিম স্মিথ

    ২৫ আগস্ট, ১৯০৬ তারিখে উইল্টশায়ারের করশ্যাম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বিগ জিম স্মিথ’ ডাকনামে ভূষিত জিম স্মিথ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত উইল্টশায়ারের…

  • |

    জিওফ্রে লেগ

    ২৬ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে কেন্টের ব্রোমলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যালভার্ন স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। নিজেকে কখনও বিশাল অঙ্কের রান সংগ্রাহকে পরিণত করতে পারেননি। তবে, ১৯২১ থেকে ১৯২২ সময়কালে ম্যালভার্নে অবস্থানকালে দুই বছর বিদ্যালয়…

  • |

    গডফ্রে ইভান্স

    ১৮ আগস্ট, ১৯২০ তারিখে মিডলসেক্সের ফিঞ্চলে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ক্যান্টারবারিভিত্তিক কেন্ট কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৬৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…

  • | | |

    অ্যালান স্টিল

    ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়েস্ট ডার্বি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জন্ম সনদে তিনি ‘অ্যালান গিবসন স্টিল’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। মার্লবোরা কলেজে অধ্যয়ন শেষে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। অসাধারণ অল-রাউন্ডার হিসেবে সুনাম…

  • |

    রাকিবুল হাসান

    ৮ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে জামালপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের অন্যতম অভিজ্ঞতাবিহীন খেলোয়াড় ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি অবশ্য যথেষ্ট গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন ও নিজের উইকেট রক্ষার্থে সচেষ্ট ছিলেন। ইনিংস…

  • |

    আইজাক বাইস

    ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে কেপ কলোনির সমারসেট ইস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯২৪-২৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…