১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৫৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের চারওয়েল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।
১৮৮২ থেকে ১৮৯৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলের সেরা বামহাতি স্পিনারদের দীর্ঘ তালিকায় অন্যতম হিসেবে চিত্রিত হয়ে আছেন। কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে কয়েক মৌসুম কেবলমাত্র মারকুটে বামহাতি ব্যাটসম্যান ও কভার-পয়েন্ট অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে খেলতেন। তবে, এ দুটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই দলে নিজের স্থান বজায় রাখতে পেরেছিলেন। অনেকগুলো অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্টি দল থেকে তাঁকে অবমুক্ত করা হয়েছিল। দলটির পক্ষে ১৩৩০ উইকেট পেয়েছিলেন। বিস্ময়করভাবে উইকেট লাভের পাশাপাশি তাঁর ব্যাটিংয়ের উত্তরণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
১৮৮৮ সালে ৮/১২ লাভ করে প্রায় একাই নটিংহ্যামশায়ার দলকে পর্যদুস্ত করেছিলেন। ১৮৯৯ সালে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ১৮৯৫ সালে সমারসেটের বিপক্ষে ৯/২২ লাভ করেন। ১৮৯৬ সালে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ২১০ রান, সাসেক্সের বিপক্ষে ১১১ এবং সাসেক্সের বিপক্ষে ফিরতি খেলায় ১০৬ রান তুলেছিলেন। অল-রাউন্ডার হিসেবেই তিনি অধিক মানানসই ছিলেন। তাঁর ব্যাটিংয়ের মান সর্বদা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলেও বোলিংয়ের মান কখনও নিচেরদিকে নামেনি।
শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদারের প্রশ্নে তাঁর পূর্বে টেড পিট, তারপর উইলফ্রেড রোডস ও কয়েক বছর পরের হ্যাডলি ভ্যারিটি রয়েছেন। খুব কমসংখ্যক ক্রিকেট বিশ্লেষকই এ বিষয়ে দ্বি-মত পোষণ করবেন। বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনে বেশ কয়েক মৌসুমে শতাধিক উইকেট পেয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬.২০ গড়ে ১৭৭৫টি উইকেট দখল করেছেন। এ পর্যায়ে ১২৩বার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ১৯.৪৪ গড়ে সাত শতক সহযোগে বারো হাজারের অধিক রানের সন্ধান পেয়েছিলেন।
১৮৮৪ থেকে ১৮৯৬ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জনি ব্রিগস, জো হান্টার, উইলিয়াম অ্যাটওয়েল ও উইল্ফ ফ্লাওয়ারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৬৮ ও ৫/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে আলফ্রেড শ’ ও আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/১৮ ও ৪/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২৬ রানে পরাভূত হয়।
সব মিলিয়ে ১০১ উইকেট দখলের পাশাপাশি ১৭১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৮৮৮ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৭/৩১ পান ও দলের বিজয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। টেস্টে ব্যাট হাতে নিয়ে দক্ষতা প্রকাশের তেমন সুযোগ পাননি। তাসত্ত্বেও তিনি তিনটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে কিছুটা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
১৮৯৬ সালে নিজ দেশে হ্যারি ট্রটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ আগস্ট, ১৮৯৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে হিউ ট্রাম্বলের বলে শূন্য রানে বিদেয় হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৩০ ও ৬/২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে সংগৃহীত চতুর্থ উইকেট নিয়ে শততম উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। ৬৬ রানে পরাভূত হলেও স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে ১০০ বা ততোধিক উইকেট লাভকারী বোলারদের মধ্যে তিনি গড়ের দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন। ১৬.৯৮ গড়ের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানে কেবলমাত্র জর্জ লোহমান, সিড বার্নস ও চার্লি টার্নার তাঁর তুলনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিংয়ের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। এরপর, মর্লেভিত্তিক ওলেন মিলে কাজ করেন। ১২ আগস্ট, ১৯৪১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মর্লে এলাকায় ৮৪ বছর ১৮১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
