১০ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের টাউন্সভিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নিজের সময়কালে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে তুলনামূলকভাবে দূর্বলতর কুইন্সল্যান্ডের পক্ষে দারুণ খেলা উপহার দিয়েছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে রাজ্য ক্রিকেটে প্রথম অংশ নেন।
ডিসেম্বর, ১৯২৯ সালে কুইন্সল্যান্ডের সদস্যরূপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৬/৬০ লাভ করে খ্যাতির তুঙ্গে পৌঁছেন। এ পর্যায়ে তিনি বিল উডফুলের আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেললে তিনি মৌসুমের বাদ-বাকী সময় খেলতে পারেননি। প্রকৃত মানসম্পন্ন পেস বোলিং করতেন। তাঁর কুইন্সল্যান্ডের অধিনায়ক লিও ও’কোনর মন্তব্য করেছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়া দূরন্ত গতিসম্পন্ন টিম ওয়ালের তুলনায় তিনি এক কদম দ্রুততার সাথে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। কুইন্সল্যান্ডে অবস্থানকালে এডি গিলবার্টের সাথে কার্যকর জুটি গড়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনায় অগ্রসর হতেন।
১৯৩২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৩২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বিল হান্ট ও বিল ও’রিলি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে তেমন কিছুই করতে পারেননি। কোন উইকেটের সন্ধান পাননি, কোন রান তুলতে পারেননি ও কোন ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি। এমনকি, পরবর্তীতে ১১ নম্বর অবস্থানে নেমে দ্রুত রান সংগ্রহকালে শূন্য রানে রান-আউটে বিদেয় নেন। এ সময়ে ডন ব্র্যাডম্যান ২৯৯ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন ও এক রানের জন্যে আরও একটি ত্রি-শতক লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। খেলায় তিনি দুইবার বোলিং উদ্বোধনে নামেন। ৮৬ রান খরচায় কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। তাসত্ত্বেও, স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-এস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এ টেস্টের পর আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা যায়নি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও রাজ্য ক্রিকেটে খেলা চলমান রাখেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুম শেষে খেলার জগৎ থেকে দূরে সড়ে আসেন। ব্যাট হাতে খুব কমই সফল ছিলেন। সর্বোচ্চ ২৩ রান তুলেছেন। ৫৮ ইনিংসের ২৫টিতে কোন রান তুলতে পারেননি। বল হাতে নিয়ে ৪২.৮৮ গড়ে ৮০ উইকেট দখল করেন। পাঁচবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৫৯ পেয়েছেন। ৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের রোসালাই এলাকায় ৭২ বছর ৩২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
