|

জন কটাম

৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্ট্রবেরি হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৮৮৯-৯০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৮৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮০-এর দশকে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মাত্র এক টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দশ বছরে ২৭ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৩জন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একটিমাত্র টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ বছর বয়সে ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে এসসিজিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রেড বার্টন, জন লায়ন্স, রেজিনাল্ড অ্যালেন ও ওয়াল্টার গিফেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শুরুতে তাঁকে দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে, অন্যান্য রাজ্য থেকে কয়েকজন খেলোয়াড়ের দাবী, প্রত্যাখ্যান, নিয়মিত চাকুরী থেকে অর্থ হারানোজনিত অনুপস্থিতির কারণে তাঁকে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। দলীয় সঙ্গী স্যাম জোন্সের সঠিক সময়ে আসতে পারেননি। দূর্ভাগ্যবশতঃ ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে আর একটিমাত্র প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন।

শেফিল্ড শীল্ড ক্রিকেটে কোন খেলায় অংশ না নিলেও ১৮৮৯-০ মৌসুমে রাজ্য দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ঐ সফরের পাঁচটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে এনএসডব্লিউ ব্যাটসম্যানদের সংগৃহীত ছয়টি অর্ধ-শতরানের তিনটি তিনি করেন। বাজে পিচেও ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী, ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটিং ও বেশ জনপ্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন। এছাড়াও, সিডনি ক্রিকেট ক্লাবের পরিচ্ছন্ন খেলোয়াড় ছিলেন। জানুয়ারি, ১৮৮৯ সালে কার্লটন ক্লাবের বিপক্ষে ১৪৩ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। ১৮৯৩-৯৪ মৌসুমে রেডফার্নের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়ে ছয় ইনিংস থেকে মাত্র ৩২ রান তুলতে পেরেছিলেন। ৩০ জানুয়ারি, ১৮৯৭ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কুলগার্ডি এলাকায় মাত্র ২৯ বছর ১৪৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ধারনা করা হয় যে, সিডনি থেকে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান গোল্ডফিল্ডসে চলে যাবার ফলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। একশত বছরের অধিক সময় পর ক্লিন্ট ইস্টন ও ড. কলিন ক্লোজ তাঁর সমাধি চিহ্নিত করেন। এরপর ক্রিকেট এনএসডব্লিউ ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ যৌথ অর্থায়ণে ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তারিখে তাঁর সম্মানার্থে স্মারকসূচক নামফলক ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কুলগার্ডি সিমেট্রিতে স্থাপন করা হয়।

Similar Posts

  • | |

    সঞ্জীব শর্মা

    ২৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারত দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি, রেলওয়ে ও রাজস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮০-এর…

  • |

    বোয়েতা ডিপেনার

    ১৪ জুন, ১৯৭৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিম্বার্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বল বরাবর ব্যাটকে নিয়ে খেলতেই অধিক পছন্দ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ঈগলস ও ফ্রি স্টেট এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের…

  • | | | |

    বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা

    ২৮ ডিসেম্বর, ১৯০৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেনারসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ভারতের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘ভিজ্জি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ভারতের সর্বাপেক্ষা বিতর্কিত অধিনায়ক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। আজমীরের প্রিন্সেস কলেজ ও ইংল্যান্ডের হেইলিবারি…

  • |

    জিওফ্রে লেগ

    ২৬ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে কেন্টের ব্রোমলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ম্যালভার্ন স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। নিজেকে কখনও বিশাল অঙ্কের রান সংগ্রাহকে পরিণত করতে পারেননি। তবে, ১৯২১ থেকে ১৯২২ সময়কালে ম্যালভার্নে অবস্থানকালে দুই বছর বিদ্যালয়…

  • |

    ইন্ডিকা গালাগে

    ২২ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে পানাদুরায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করে দলে কিছু অবদান রাখেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিকলিকে দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। বেশ লাফিয়ে বলে সিম আনয়ণে দক্ষতা প্রদর্শনসহ বাউন্স প্রদানে সক্ষম। ফিল্ডার হিসেবেও মাঠের যে-কোন স্থানে অবস্থান করেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় পানাদুরাভিত্তিক শ্রী সুমঙ্গলায়…

  • | |

    অ্যান্ড্রু গ্রীনউড

    ২০ আগস্ট, ১৮৪৭ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কাউমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডিপ অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৮৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। লড়াকু মানসিকতার অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে…