| |

গারেথ ব্রিস

৯ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে জ্যামাইকার মন্টেগো বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০০০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘ব্রিগি’ ডাকনামে ভূষিত গারেথ ব্রিস ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। কিংস্টনভিত্তিক উলমার্স বয়েজ স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমের রেড স্ট্রাইপ কাপ প্রতিযোগিতায় জ্যামাইকার পক্ষে খেলেন। এরপর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেন। ২০০১-০২ মৌসুমের বুস্টা কাপ প্রতিযোগিতায় অন্যতম সফলতা পান। জ্যামাইকার পক্ষে অফ-স্পিন বোলিং করে ৪৪ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, সেমি-ফাইনালে বার্বাডোসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/৬০ লাভ করে দলকে জয় এনে দেন। এছাড়াও, শেষেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে সাড়ে তিনশতের অধিক রান তুলেন। এপ্রিলে সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে বুস্টা একাদশের সদস্যরূপে খেলেন। এরফলে, গায়ানায় সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এক দশকের অধিক সময় জ্যামাইকার পক্ষে খেলেছিলেন। জ্যামাইকা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী হবার সুবাদে ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডে চলে যান ও ইংরেজ কাউন্টি দল ডারহামের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর থেকেই ডারহাম দলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন বিশেষতঃ সীমিত-ওভারের খেলায় অংশ নিতেন। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত রয়্যাল লন্ডন কাপের চূড়ান্ত খেলায় ডারহাম বনাম ওয়ারউইকশায়ারের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। ঐ খেলায় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়সূচক রান সংগ্রহ করেন ও দল তিন উইকেটে জয় পায়। দলটিতে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।

২০০২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০২ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। জার্মেইন লসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১০৮ ও ০/২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে হরভজন সিংয়ের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ১২৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪৬৯৩ রান ও ২৮৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০১৪ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ডারহামে বসবাস করছেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের ইংল্যান্ডের মহিলাদের প্রতিভা অন্বেষণে কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দল ও একাডেমির স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বে থাকাকালে ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেন ও মার্চে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান।

Similar Posts

  • | | | |

    কৃষ শ্রীকান্ত

    ২১ ডিসেম্বর, ১৯৫৯ তারিখে তামিলনাড়ুর মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ভারত ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদ্যুৎ প্রকৌশলী হিসেবে শিক্ষালাভ করেন। চেন্নাইভিত্তিক গুইন্ডির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন তিনি। সহজাত প্রকৃতির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও অতিদ্রুততার সাথে ভারসাম্য বজায়…

  • | | | | |

    সুনীল গাভাস্কার

    ১০ জুলাই, ১৯৪৯ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্রগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন ও সন্দেহাতীতভাবেই সর্বশ্রেষ্ঠ ডানহাতি ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা লাভ করছেন।…

  • |

    আফতাব বালুচ

    ১ এপ্রিল, ১৯৫৩ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স,…

  • |

    আলবার্ট প্যাডমোর

    ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে বার্বাডোসের হলস ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লিকলিকে গড়নের অধিকারী। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই ল্যান্স গিবসের অনুরূপ ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭২-৭৩…

  • |

    ক্রিস উকস

    ২ মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার এবং নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি…

  • | |

    দিনেশ চণ্ডীমল

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে বালাপিটিয়ায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হবার পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে ছিলেন। আম্বালাঙ্গোদাভিত্তিক ধর্মসকা কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেট খেলা শিখতে শুরু করেন। বিদ্যালয় জীবনে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহে তৎপরতা দেখান।…