৭ মার্চ, ১৮৬০ তারিখে চেশায়ারের উডচার্চ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
বার্কেনহেডের ব্যবসায়ী পিতা জন উড ও এলিজাবেথ দম্পতির সন্তান ছিলেন। চার্টারহাউজে অধ্যয়ন করেছেন। ১৮৭৬ সালে সেখানকার ক্রিকেট একাদশের সদস্য হন। ক্লাব ক্রিকেটে বার্কেনহেড পার্ক ও লিভারপুল এন্ড ডিস্ট্রিক্ট একাদশের পক্ষে খেলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার এবং অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮০ থেকে ১৮৮৬/৮৭ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮০ সাল থেকে ১৮৮৪ সময়কালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে শৌখিন খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। তবে, ১৮৮৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসিত হন। এ পর্যায়ে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে পেশাদারী খেলোয়াড় হিসেবে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন।
১৮৮৭ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে অন্যতম বিস্ময়কর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেছিলেন। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দল অস্ট্রেলিয়া সফরে আসে। ডব্লিউ. বার্নস আঘাতের কবলে পড়লে তিনি সফরকারী দলের সদস্যরূপে তিনটি খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, একটি ছিল টেস্ট। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে ১২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা নিয়ে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন সম্পন্ন হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলা পরিচালনা করেছেন। ১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে ইস্ট মেলবোর্ন, ১৮৮৮-৮৯ মৌসুমে মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব এবং ১৮৮৯ সালে সিডনিভিত্তিক আলবার্ট ক্লাবের পেশাদার কোচের দায়িত্ব পালন করেন। চার্টারহাউজের নিবন্ধন বহিতে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ায় ভেড়ার খামার পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে, সিডনির ম্যানলিতে গ্রন্থ সংরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সেখানেই তিনি বসবাস করতেন। ১৮৮১ সালের আদমশুমারীতে তিনি ৫ স্ল্যাটলি রোড, ক্লফটন, বার্কেনহেডে পিতা জন উড ও কানাডীয় মাতা এলিজাবেথ এফ. উডের সাথে থাকতেন। বোন এলিজাবেথ টি. এবং ভ্রাতৃদ্বয় – ফ্রেডরিক উইলিয়াম ও আলেকজান্ডার জি. ছিল। তাঁদের দুইজন গৃহভৃত্য ছিল। তবে, জীবনের শেষদিকে চরম দারিদ্র্যতার মুখোমুখি হন। ৬ জানুয়ারি, ১৯১৫ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ম্যানলি এলাকার সেন্ট রোনান্স হাসপাতালে ৫৪ বছর ৩০৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
