| |

বিলি বেটস

১৯ নভেম্বর, ১৮৫৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের লাসেলস হল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দক্ষ অফ-স্পিনার হিসেবে তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল। সহজাত প্রতিভার অধিকারী বোলার হিসেবে বলকে বেশ বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৮৮১ থেকে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দশটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে ইনিংস উদ্বোধনের জন্যে যথেষ্ট ছিল।

১৮৮১ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলেছিলেন। এরফলে, নিজ দেশে না খেলে বিদেশের মাটিতে সর্বাধিকসংখ্যক টেস্টে অংশগ্রহণের রেকর্ড হিসেবে চিত্রিত হয়। ১৬.৪২ গড়ে ৫০ উইকেট লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস সহযোগে ২৭.৩৩ গড়ে ৬৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৮৮১-৮২ মৌসুমে আলফ্রেড শ’য়ের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার শ্রিউসবারি, টেড পিট, ডিক পিলিং, ডিক বার্লো ও উইলিয়াম স্কটনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫৮ ও ৪৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৪৩ ও ২/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৮৮২-৮৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। মেলবোর্ন টেস্টে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। পার্সি ম্যাকডোনেল, জর্জ গিফেন ও জর্জ বোনর তাঁর উপর্যুপরী শিকারে পরিণত হন। ১৮৮৩-৮৪ মৌসুমে মেলবোর্ন টেস্টে ৭/২৮ ও ৭/২৪ নিয়ে ইংল্যান্ড দলকে ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন। এরফলে, চমৎকার রূপালী টুপি লাভের অধিকারী হন। দুই বছর পর পুণরায় অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অ্যাডিলেড টেস্টে ৫/৩১ ও সিডনি টেস্টে ৫/২৪ লাভ করেন।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৩১ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আর্থার শ্রিউসবারি’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন। টেস্টগুলোয় ২৪ ও ৩৯ রান তুলেছিলেন। শীর্ষসারিতে খেলে তেমন মন্দ খেলেননি।

একই সফরের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ৩০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে চার্লি টার্নারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৭১ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে খামখেয়ালীপণার শিকারে পরিণত হলে তাঁর বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে। জালঘেরা আবদ্ধ স্থানে অনুশীলনীকালে বল তাঁর সোজা মুখে আঘাত হানে। এরফলে, তাঁর চোখ মারাত্মকভাবে জখম হয় ও স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি আর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। এরপর থেকে মানসিক অশান্তিতে ভুগতে থাকেন। আত্মহননের চেষ্টা চালান।

এক পর্যায়ে আরোগ্য লাভের পর নিজ কাউন্টি ইয়র্কশায়ারের কোচ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে, নতুন পেশায় খুব কমই সময় দিতে পেরেছিলেন। শুধুমাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখেনি। মানসিক অশান্তিও এতে যুক্ত ছিল। ৮ জানুয়ারি, ১৯০০ তারিখে ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ডের লেপ্টন এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে মাত্র ৪৪ বছর ৫০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    জর্জ হার্ন, ১৮৫৬

    ৭ জুলাই, ১৮৫৬ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, রাউন্ড আর্ম ভঙ্গীমায় বামহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জিজি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সুপরিচিত হার্ন পরিবারের অন্যতম সদস্য তিনি। ফ্রাঙ্ক ও অ্যালেক ভ্রাতৃদ্বয় রয়েছে এবং তিনি…

  • |

    লাসিথ এম্বুলদেনিয়া

    ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। কলম্বোভিত্তিক রয়্যাল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। রঙ্গনা হেরাথকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। রঙ্গনা হেরাথের ন্যায় তিনিও টেস্টভুক্ত সকল দেশের বিপক্ষে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করার স্বপ্ন দেখেন। ধারাবাহিকতা…

  • |

    চার্লস কভেন্ট্রি, ১৯৮৩

    ৮ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে মিডল্যান্ডসের কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। তবে, একদিনের ক্রিকেটে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক ও উইকেট-রক্ষণে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মাতাবেলেল্যান্ড, মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্স, ওয়েস্টার্নস…

  • |

    সেস ডিক্সন

    ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯১ তারিখে ট্রান্সভালের পচেফস্ট্রুম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯১০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অফ-স্পিনের আদলে প্রায় মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে-পিছে ১৯১২-১৩…

  • |

    ব্যারি মিলবার্ন

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৪৩ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনের মাওরি হিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিনটি…

  • |

    টিচ রিচমন্ড

    ২৩ জুন, ১৮৯০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের র‍্যাডক্লিফ-অন-ট্রেন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বৃক্ষ পরিচর্যাকারী থমাস ও জেন দম্পতির পাঁচ সন্তানের অন্যতম ছিলেন। দ্য শেরউড ফরেস্টার্সে সার্জেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, ১ মার্চ, ১৯১৯ তারিখে গ্যাসট্রিটিসের কারণে…