|

টিনো ময়োয়ু

৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে মনিকাল্যান্ডের আমটালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষণ কর্মে এগিয়ে আসেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ও জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। এরপূর্বেই অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পড়াশুনোয় মনোনিবেশ ঘটানোর কারণে জাতীয় দলের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে তিনি কম অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘এ’ দলের সদস্যরূপে টেস্ট খেলায় অংশ নেয়ার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে ইস্টার্নস, মনিকাল্যান্ড ও মাউন্টেনিয়ার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। লোগান কাপে ইস্টার্নসের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন ও দলের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলেন। এরফলে, ২০০৬-০৭ মৌসুমের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দ্বৈত শিরোপা জয়ে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। নতুন বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত পদ্ধতির আলোকে মাউন্টেনিয়ার্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ২০০৯-১০ মৌসুমে ফেইদওয়্যার মেটব্যাংক একদিনের প্রতিযোগিতায় ৬০.৫৭ গড়ে ৪২৪ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এক দশক পর নিজেকে আরও মেলে ধরেন। অধিনায়ক হিসেবে লোগান কাপের হ্যাট্রিক শিরোপায় ভূমিকা রাখেন।

২০০৬ থেকে ২০১৬ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০০৬ সালের শেষদিকে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। ৮ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথম খেলেন। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে বিবেচিত হননি। এরপর, ‘এ’ দলের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। কিন্তু, বুলাওয়েতে প্রশিক্ষণ শিবিরে অসংলগ্ন আচরণের কারণে এ দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েন। তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ব্যাপকভাবে রান সংগ্রহে বেশ তৎপর ছিলেন।

স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে ২০১১ সালে টেস্ট ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ে দল ফিরে আসলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের খসড়া তালিকায় থাকেন। প্রায় ছয় বছর টেস্ট খেলা থেকে দূরে থাকার পর জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের মুখোমুখি হন। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে ব্রায়ান ভিটোরি, ক্রেগ আরভিন ও কাইল জার্ভিসের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৩ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেন এবং দলনায়ক ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল ১৩০ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।

রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বনে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করেন। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে সাঈদ আজমলের দুসরাকে পাশ কাটিয়ে ১৬৩ রানে অপরাজিত থাকেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বৈশ্বিকভাবে ৪৭তম ও জিম্বাবুয়ের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে ইনিংসে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন। তবে, জিম্বাবুয়ের সীমিত টেস্টে অংশগ্রহণের কারণে আর তেমন নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই সপ্রতিভ পদচারণ করেছিলেন।

সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছেন। তবে, ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন অনেকাংশেই ধারাবাহিকতাহীন ও অধিকাংশ সময়ই জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর নজরে রয়েছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে রঙ্গনা হেরাথের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৬ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সফরকারীরা ২৫৭ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। ৩ ও ১৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • | |

    উইয়ান মুল্ডার

    ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে গটেংয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা প্রদর্শন করে চলছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ‘উইয়ান’ ডাকনামে পরিচিত। সেন্ট স্টিথিয়ান্সে অধ্যয়ন করেছেন। কলেজে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। কিশোর অবস্থায় যুবদের ক্রিকেটে অংশ…

  • |

    এডওয়ার্ড ফন ডার মারউই

    ৯ নভেম্বর, ১৯০৩ তারিখে ট্রান্সভালের রাস্টেনবার্গ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে অপূর্ব ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রাখতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ট্রান্সভালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সকল ধরনের খেলাধূলায় নিজেকে যুক্ত…

  • |

    জেফ নবলেট

    ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৬ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পার্কসাইড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অসাধারণ খেলোয়াড় ছিলেন। উভয়দিক দিয়েই বলকে ঘুরাতে পারতেন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫২-৫৩ মৌসুম…

  • | | | | |

    ক্লাইড ওয়ালকট

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯২৬ তারিখে বার্বাডোসের নিউ অর্লিয়েন্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি, কোচ, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ক্লাইড ওয়ালকট বার্বাডোসভিত্তিক হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট…

  • | | |

    মুফাসির-উল-হক

    ১৬ আগস্ট, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কার্নল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • |

    জুনায়েদ সিদ্দিকী

    ৩০ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হন। বাংলাদেশের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে থাকেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে বেশ উঁচুতে ব্যাট তুলে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হন। তামিম ইকবালের সাথে ব্যাটিংয়ে নেমে…