|

আসেলা গুণরত্নে

৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। রাহুলা কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কা আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ক্যান্ডি তুস্কার্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে পানাগোদায় অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা আর্মি স্পোর্টস ক্লাব বনাম মুরস স্পোর্টস ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

উইকেটে অবস্থান করে স্কয়ার অঞ্চল দিয়ে খেলতে অধিকতর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ইতোমধ্যে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ২০০ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, টেস্ট ও ওডিআইয়ে শতক হাঁকিয়েছেন। শ্রীলঙ্কা ও অল-রাউন্ডার – একে-অপরের পরিপূরক এবং এ দাবীর স্বপক্ষে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করে তালিকাকে আরও দীর্ঘতর করে তুলেছেন।

আগ্রাসী মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান। উদ্ভাবনীমূলক শট খেলার পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বোলিংয়েও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ঘরোয়া প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা আর্মি স্পোর্টস ক্লাবের পক্ষে কিছু দৃষ্টিনন্দন ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। তিন বছর ধরে ৫০-এর অধিক গড়ে রান তুলেছেন। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান ও পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার পথ সুগম হয়।শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং কিংবদন্তীদের অবসর গ্রহণের পর দলের পুণর্গঠনে দল নির্বাচকমণ্ডীর আস্থা অর্জনে সমর্থ হন।

২০১৬ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ তারিখে বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। এরপর, ঐ বছরের শেষদিকে টেস্ট ও ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে রঙ্গনা হেরাথের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। দলে অন্তর্ভুক্তির পর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেন। ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লাহিরু কুমারা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় অভিষেকেই অর্ধ-শতক হাঁকান। ৫৪ ও ১৬* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্রায়েম ক্রিমারের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ২২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

পরের খেলায় শতরানের সন্ধান পান। এ সফরে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের আঘাতের কারণে ওডিআই দলে খেলার সুযোগ ঘটে তাঁর। ১৪ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজেও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। ছয় নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কার প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতক হাঁকানোর কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। পরবর্তীতে, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি২০আই সিরিজে অংশ নেন। উপর্যুপরী অর্ধ-শতরান সংগ্রহ করেছিলেন। এরফলে, আইপিএলে অংশ নেয়ার পথ সুগম হয়। ২০১৭ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।

২০১৭ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসেই আঘাতের কারণে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। তবে শিখর ধবনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩০৪ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • | |

    হনুমন্ত সিং

    ২৯ মার্চ, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজস্থানের বাঁসারা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের আরও একজন রাজপুত্র হিসেবে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দিলীপ সিংয়ের ভ্রাতুষ্পুত্র ও ইন্দ্রজিৎসিংজী’র কাকাতো ভাই ছিলেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম…

  • |

    রয় গিলক্রিস্ট

    ২৮ জুন, ১৯৩৪ তারিখে জ্যামাইকার সীফোর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জিলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অন্যতম দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা পেয়েছেন। বল…

  • আব্দুর রেহমান

    ১ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি স্পিনার ছিলেন। ক্রিকেট বলকে বিরাটভাবে বাঁক খাওয়াতে না পারলেও নিখুঁততা বজায় রেখে ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে শুধুমাত্র যে ঘরোয়া পর্যায়েই সফল ছিলেন…

  • | |

    কার্ল রেকেম্যান

    ৩ জুন, ১৯৬০ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের ওন্ডাই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও রাজনীতিবিদ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দলীয় সঙ্গীদের কাছে ‘মক্কা’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। নিজের সময়কালে অন্যতম কার্যকর ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন। ব্যাটসম্যানদের…

  • | |

    অমল সিলভা

    ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে মোরাতুয়া স্পোর্টস ক্লাব ও নন্দেস্ক্রিপ্টস ক্রিকেট…

  • |

    জেপি ডুমিনি

    ১৪ এপ্রিল, ১৯৮৪ তারিখে কেপ প্রভিন্সের স্ট্রান্ডফন্তেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেপি’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ১.৭০ মিটার উচ্চতার অধিকারী। জন ডুমিনি ও জুনিটা বার্গম্যান দম্পতির সন্তান তিনি। কিশোর বয়সেই প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। মাঠের সর্বত্র শট…