মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা

৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে নাগোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। সচরাচর, শর্ট কভার অঞ্চলে ফিল্ডিং করেন।

৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। মাঝারিসারির মারকুটে ব্যাটসম্যান ও কার্যকর বামহাতি স্পিনার। কালুতারা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্যতায় পরিপূর্ণ শ্রীলঙ্কা দলের বড় ধরনের তালিকায় নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাব, বাসনাহিরা সাউথ, চিল ম্যারিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, রাগামা ক্রিকেট ক্লাব, রুহুনা, সেবাস্টিয়ানিটিস ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব এবং বাংলাদেশী ক্রিকেট রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, গল গ্ল্যাডিয়েটর্স, কন্দুরাতা ম্যারুন্স, সারাসেন্স ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৫ সালে সেবাস্টিয়ানিটেস ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে কলম্বোর সিসিসিতে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দলের প্রতিপক্ষ ছিল কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব। কয়েক বছর শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পান। ২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার ৩০-সদস্যবিশিষ্ট প্রাথমিক তালিকায় তাঁকে যুক্ত করা হয়। তবে, চূড়ান্ত দলে তাঁকে রাখা হয়নি। এরপূর্বে এসএলসি ইন্টার-প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে বাসনাহিরা সাউথের সদস্যরূপে রুহুনা’র বিপক্ষে ১৩৫ রানের নিজস্ব প্রথম প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, ঐ খেলায় পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ কয়েক বছর দূর্দান্ত খেলার পর জুন, ২০১৫ সালে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালে প্রিমিয়ার লীগ টুর্নামেন্টে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দিয়েছিলেন। ৬৭.২৯ গড়ে ১১৪৪ রান তুলে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, বাদুরেলিয়া ক্রিকেটে ক্লাবের পক্ষে ২০ উইকেট দখল করেছিলেন।

২০১৫ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৫ সালে নিজ দেশে পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। ১১ জুলাই, ২০১৫ তারিখে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে মাত্র ২৫ বলে দূর্দান্ত অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এ পর্যায়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের সাথে ১১৪ রানের জুটি গড়েন। এ ধরনের ক্রিকেটে নিজের সক্ষমতা তুলে ধরার পর একই বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। একই সফরের ৩০ জুলাই, ২০১৫ তারিখে প্রথমবারের মতো টি২০আইয়ে অংশ নেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। দলের একমাত্র ইনিংসে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ০/১৩ ও ২/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৬ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই সফরের ২২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত খেলায় তাঁর টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। তাঁর অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের সুবাদে স্বাগতিকরা ৭২ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬ সালে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ মে, ২০১৬ তারিখে চেস্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২য় ইনভেসটেক টেস্টে অংশ নেন। ২/৩৫ ও ১/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জেমস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর থেকেই দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতে থাকেন। ১৫ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে থিসারা’র সাথে তাঁকে ওডিআই দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ তারিখে থিরিমানে ও ভ্যান্ডারসে’র সাথে তাঁকে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকল্পে শ্রীলঙ্কা দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

Similar Posts

  • | |

    মার্ক বার্জেস

    ১৭ জুলাই, ১৯৪৪ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নিউজিল্যান্ড দলের শৌখিন খেলা থেকে পেশাদারী পর্যায়ে নিয়ে আসার ক্রান্তিলগ্নে খেলার সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দলের টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দেন ও দলকে ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট…

  • |

    শাদাব কবির

    ১২ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং…

  • |

    রাজিন্দার পাল

    ১৮ নভেম্বর, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ও প্রাণবন্তঃ পেস বোলিং করতেন। তবে, ভুল সময়ে তাঁর জন্ম হয়েছিল। এ সময়ে স্পিন ও অল-রাউন্ডার নিয়ে দল সাজানো…

  • |

    ট্রেন্ট বোল্ট

    ২২ জুলাই, ১৯৮৯ তারিখে রোতোরুয়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে সুইং বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শনসহ শেষেরদিকের ওভারগুলো পেস ও নিশানা বরাবর বল ফেলে চাতুর্য্যতার পরিচয় দিয়েছেন। ওয়াসিম আকরামের সাফল্যে উজ্জ্বীবিত…

  • | |

    ডিন এলগার

    ১১ জুন, ১৯৮৭ তারিখে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেটের ওয়েলকম এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটিয়ে থাকেন। ২০০৫ সালে ফ্রি স্টেটের পক্ষে…

  • | | |

    ওয়াসিম বারি

    ২৩ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে বোলিংয়েও পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের নেতৃত্বে ছিলেন। পাকিস্তানে মানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষক না থাকলেও সেরাদের কাতারে অবস্থানে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন স্ব-মহিমায়। রডনি মার্শ কিংবা জেফ ডুজনের ন্যায় দর্শনীয় না হলেও…