৩০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় দৃষ্টিনন্দন উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিতভাবে দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুত রান তুলতে তৎপরতা দেখাতেন। বিদ্যালয় থেকে চলে আসা খুব স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে অতীতের খেলার রেশ বড়দের পর্যায়ের ক্রিকেটেও প্রবাহিত করতে দক্ষতা দেখিয়েছেন। এক পর্যায়ে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টিগোচরে পড়েন।
কলম্বোভিত্তিক থার্স্টান কলেজে অধ্যয়নকালীন ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর, চূড়ান্ত বর্ষ সেন্ট যোসেফসে অতিক্রান্ত করেন। বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে সেন্ট যোসেফের পক্ষে ১২৬ রানের স্মরণীয় ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এখানেও তিনি সফল হন। ২০১৪ সালের যুবদের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ৪৪.১৭ গড়ে ২৬৫ রান তুলেছিলেন।
২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডাম্বুলা ভাইকিংয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কাটুনায়াকেতে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কা এয়ার ফোর্স স্পোর্টস ক্লাব বনাম কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলে থাকাকালীন কুশল মেন্ডিসের সাথে তিনিও প্রথমসারিতে জাতীয় দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনও জাতীয় দলে স্থান লাভে প্রভূতঃ ভূমিকা রেখেছিল। কোল্টস ক্রিকেট ক্লাবে থাকাকালীন প্রথম মৌসুমে মাঝারিসারির সফলতা পান। তবে, দ্বিতীয় বছরে ভালোমানের খেলা উপহারের পর তৃতীয় বছরে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে এ স্তরের ক্রিকেটে ৫৯.৭৬ গড়ে ১০১৬ রান তুলে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে অভিষেক ঘটে। শক্তিধর ইংল্যান্ড লায়ন্সের বোলিং আক্রমণ মোকাবেলা করে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ২২৩ বলে ১৮৫ রানের চমকপ্রদ ইনিংস উপহার দেন। এ সকল সাফল্যের ফলে একই বছরে শ্রীলঙ্কা দলে খেলার জন্যে প্রথমবারের মতো আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অংশ নেন।
২০১৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। লাহিরু গামাগে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৮ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। তবে, ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ শতকের সুবাদে শ্রীলঙ্কা দল ৬৮ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। একই সফরের ২০ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে শারজায় ও ২৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে আবুধাবিতে যথাক্রমে ওডিআই ও টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রভাত জয়সুরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পায়।
