| | |

ওয়ালিস ম্যাথিয়াস

৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পাকিস্তানের পক্ষে প্রথম অ-মুসলিম খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী আটজন অ-মুসলিম ক্রিকেটারের অন্যতম। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ফিল্ডিংয়ে দূর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন। শক্তিধর মিডিয়াম-পেস আক্রমণকালীন স্লিপ অঞ্চলে তিনি বেশ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছিলেন। ব্যতিক্রমীপন্থায় বেশ কিছু দর্শনীয় ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। দুরূহ ক্যাচগুলোকে তিনি সাধারণমানের পরিণত করেছিলেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। তবে, সংগৃহীত রানে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেননি। ২৩.৭২ গড়ে ৭৮৩ রান পেয়েছেন। তাসত্ত্বেও, নিয়মিতভাবে খেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৬২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে নিজ দেশে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২০ বছর বয়সে ৭ নভেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। আগা সাদত আলী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অপরাজিত ৪১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৬৪ ও ৪৫ রান তুলে নিম্নমূখী রানের খেলায় দলের সফলতম খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ঐ খেলায় তাঁর দল বিজয়ী হয়। এর এক বছর পূর্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে উপর্যুপরী টেস্টে ৭৩ ও ৭৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৬২ সালে জাভেদ বার্কি’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৬ আগস্ট, ১৯৬২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৪৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ঐ সফরে তিন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, পরের বছর অনুশীলনীকালে আঙ্গুলে আঘাত পেলে ফিল্ডিংয়ে কিছুটা বিরূপ প্রভাব ফেলে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে করাচী ব্লুজের সদস্যরূপে রেলওয়ে গ্রীনসের বিপক্ষে ২৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন ও ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম পর্যন্ত খেলেন। ১৪৬টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৪৪.৪৯ গড়ে ৭৫২০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ১৬টি শতরান করেছিলেন। এছাড়াও, টেস্টে ২২টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন। তন্মধ্যে, সব মিলিয়ে ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন ১৩০টি। এরপর, কোচ, দল নির্বাচক ও ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। জনপ্রিয় অধিনায়ক ও সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে ৫৯ বছর ২০৯ দিন বয়সে দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    রোহন কানহাই

    ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিটিশ গায়ানার বারবাইসের পোর্ট মোর‍্যান্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছিলেন। গ্যারি সোবার্সের সমসাময়িক ছিলেন। আল্ফ গোভারের আরেক জনপ্রিয় শিক্ষার্থী ছিলেন। গ্যারি সোবার্সকে নিয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা মাঝারিসারির…

  • |

    আলফ্রেড বিন্স

    ২৪ জুলাই, ১৯২৯ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৬…

  • |

    নাভেদ আশরাফ

    ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, রাওয়ালপিন্ডি ও রেডকো পাকিস্তান লিমিটেডের…

  • |

    জাস্টিন গ্রিভস

    ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে বার্বাডোসের সেন্ট জেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস, লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং কম্বাইন্ড ক্যাম্পাসেস ও কলেজেস…

  • | |

    জোয়েল গার্নার

    ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে বার্বাডোসের এন্টারপ্রাইজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রভাব বিস্তারে অন্যতম ফাস্ট বোলার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ক্রিকেট জগতে তিনি জ্যামাইকার জাতীয় পাখী ডক্টর…

  • | |

    এমফুনেকো এনগাম

    ২৯ জানুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কেপ প্রভিন্সের মিডলড্রিফ্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘ব্ল্যাক থান্ডার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। মাদারওয়েলের ডগলাস এমবোপায় অধ্যয়ন করেছেন। একদা দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট-বোলিং জগতে পূর্ণাঙ্গ আশার প্রদীপ জ্বেলে…