| |

শোয়েব মোহাম্মদ

৮ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও প্রায়শঃই স্ট্রোকবিহীন অবস্থায় খেলা শোয়েব আহমেদ অনেক সময় অতিমানবীয় শক্তি নিয়ে ব্যাটিংয়ে মনোনিবেশ ঘটাতেন। পিতা হানিফ মোহাম্মদের ন্যায় তিনিও সচরাচর ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। মূলতঃ অফ-সাইডেই তিনি শট খেলতে দক্ষতা প্রদর্শন করতেন। এছাড়াও, কভার ড্রাইভগুলো বেশ দৃষ্টিনন্দন ছিল। সামনের পায়ে ভর রেখে খেলতেন তিনি। সাতটি শতক হাঁকিয়েছেন। তন্মধ্যে, পাঁচটিই নিউজিল্যান্ডীয় বোলারদের মোকাবেলান্তে সফলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন।

কভার অঞ্চলে সতর্ক ফিল্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। তবে, লেগ-সাইডে ডিপ অঞ্চলে কিংবা শর্ট লেগে হেলমেটের পিছনে দণ্ডায়মান থাকতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। মাঝে-মধ্যে অফ-স্পিন বোলিং করতেন। মূলতঃ থিতু হয়ে আসা জুটিতে ফাঁটল ধরাতে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৪৫ টেস্ট ও ৬৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে জহির আব্বাসের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩ তারিখে জলন্ধরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। কাসিম উমরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬ ও ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম রাজা’র অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৯ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ৮০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে মোহসিন কামালের (১০৪) সাথে ১৭৩ রানের জুটি গড়ে উদ্বোধনী জুটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন রেকর্ড গড়েন। তবে, সরফরাজ নওয়াজের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

১৯৮৮-৮৯ মৌসুমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/১ ও ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

১৯৯০-৯১ মৌসুমে নিজ দেশে মার্টিন ক্রো’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখাসহ ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২০৩ রানের সমকক্ষ হন। দলের একমাত্র ইনিংসে ২০৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৪৩ রানে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

একই সফরের ১৮ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের ছাঁপ রাখেন ও কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। খেলায় তিনি ১০৫ ও ৪২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৬ অক্টোবর, ১৯৯০ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১৫ ও ১৪২ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬৫ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। এছাড়াও, ৫০৭ রান সংগ্রহ করে ওয়াকার ইউনুস ও মার্টিন ক্রো’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৪৪ রানে জয় পেয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২০০৯ সালে আব্দুল কাদির ও সেলিম জাফরের সাথে তিনিও দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। শেহজার মোহাম্মদ নামীয় সন্তান রয়েছে।

Similar Posts

  • |

    এজি মিল্খা সিং

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুম থেকে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব…

  • | | | | |

    ইন্তিখাব আলম

    ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, প্রশাসক ও রেফারি। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৮২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ভূমিকা রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পাঞ্জাব,…

  • |

    জ্যাক মার্টিন

    ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৭ তারিখে লন্ডনের ক্যাটফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সপ্রতিভ ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর…

  • | |

    সাদিক মোহাম্মদ

    ৩ মে, ১৯৪৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের জুনাগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও…

  • | | | |

    পিটার মে

    ৩১ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে বার্কশায়ারের দ্য মাউন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রেফারি ছিলেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন গড়নের অধিকারী ছিলেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংরেজ ক্রিকেটে চাকচিক্য আনয়ণে স্বর্ণালী সময়ে নিয়ে আসতে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান। নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষীয় অস্ট্রেলীয় রিচি বেনো’র…

  • |

    বুস্টার ফারার

    ৮ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কিং উইলিয়ামস টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ডেল কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বর্ডারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০…