২৬ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘ডেকান্স’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগ ও পূর্বাঞ্চলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। এছাড়াও, খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির পক্ষে খেলেছেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লীগে ৬৪০ রান তুলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের স্বীকৃতি পান ও সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন।
বল মোকাবেলায় ব্যাটিং কৌশল অবলম্বনের চেয়ে সময়কে নিয়ন্ত্রণ করে খেলায় অগ্রসর হতেন। বাংলাদেশে সফররত জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে আশাব্যঞ্জক রান সংগ্রহের মাধ্যমে দলে স্থান নিশ্চিত করেন। ২৩ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে ফতুল্লায় বাংলাদেশ সফররত জিম্বাবুয়ীয় একাদশের বিপক্ষে খেলার জন্যে বিসিবি একাদশের সদস্যরূপে খেলেন। ৮১ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। বামহাতে স্পিন বোলিং করতে পারতেন। তবে, ২০০৭ সালে সন্দেহজনক বোলিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হন। পরবর্তীতে পর্যবেক্ষণে থেকে বোলিং করার অনুমতি দেয়া হয়।
২০১০ সালের এশিয়ান গেমসে অংশ নেন। ২৫ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৩ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীতে পরিণত হন। বেশ কয়েক বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়কালে বাংলাদেশের পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তুলনামূলকভাবে বেশ বয়স নিয়ে ২৬ বছর বয়সে ২০০৩-০৪ মৌসুমে হাবিবুল বাশারের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯ মে, ২০০৪ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ২৮ মে, ২০০৪ তারিখে গ্রোস আইলেটে তারেক আজিজের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। বল হাতে নিয়ে ১২৬ রান খরচ করলেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। এ সফরে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তেমন সফলতা পাননি। অতঃপর, দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ওডিআই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঐ সফরে দুইটি খেলায় অংশ নেন। তবে, দলে খুব কমই ভূমিকা রাখতে পেরেছিলেন। এরফলে, তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। ১৬ জুলাই, ২০১০ তারিখে বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের খেলায় ঠিকই ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন।
