|

বিনোদ কাম্বলি

১৮ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

শচীন তেন্ডুলকরের সাথে একত্রে রমাকান্ত আচরেকরের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শচীন তেন্ডুলকরের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন শুরুর তিন বছর পর তাঁর যাত্রা শুরু হয়। তিন বছর পর রঞ্জী ট্রফিতে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান। শৃঙ্খলাবিহীন জীবন ও ব্যাটের হাতলে নয়টি গ্রিপ দেখা যায়।

বোম্বেভিত্তিক বালকদের ক্রিকেটে এক বছরের ছোট ১৭ বছর বয়সী শচীন তেন্ডুলকরের সাথে ৬৬৪ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটির বিশ্বরেকর্ডের কারণে সর্বাপেক্ষা পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, ভারতের পক্ষে প্রথম সাত টেস্টে দুইটি দ্বি-শতক ও দুইটি শতক হাঁকিয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বি-শতকগুলো একাধারে দুই ভিন্ন দলের বিপক্ষে পেয়েছেন। স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে অন্যতম মারকুটে খেলোয়াড় হিসেবে খ্যাতি কুড়ান। শেন ওয়ার্নের এক ওভার থেকে ২২ রান তুলেছিলেন। প্রায়শঃই শর্ট বলের বিপক্ষে তাঁর দূর্বলতার চিত্র ধরা পড়ে ও গালি অঞ্চলে নিয়মিতভাবে বিদেয় নেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

১৯৯১ থেকে ২০০০ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ১৭ টেস্ট ও ১০৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর, ১৯৯১ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম গুচের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। রাজেশ চৌহানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অসামান্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডেভ হটনের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ২২৭ রান সংগ্রহ করেন। এ পর্যায়ে তৃতীয় উইকেটে শচীন তেন্ডুলকরের সাথে ১৩৭ রানের জুটি গড়েন। তাঁর অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩ রানে জয় পায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। এ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ও ১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ক্রিস প্রিঙ্গলের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অভিষেকধারী স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের অসাধারণ সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

টেস্টের ন্যায় একদিনের দলেও আসা-যাবার পালায় ছিলেন। ২৪ বছরে পদার্পণ ঘটার পূর্বে ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে লি জার্মনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ নভেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অক্টোবর, ২০০০ সালের পর ভারতের ওডিআই দলে রাখা হয়নি। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ২০১১ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

টেস্টে ৫৪.২০ গড়ে রান পেয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ১২৯ খেলায় প্রায় ৬০ গড়ে ৩৫ শতক ও ৪৪টি অর্ধ-শতক করেছেন। ছন্দহীনতা, মাদকাসক্তি, খেলোয়াড়দের ঘুম ভাঙানোকে তাঁর দল থেকে বাদ পড়ার প্রধান বিষয় ছিল। শচীন তেন্ডুলকরের সাথে তুলনায় আনতে কারোরই দ্বি-মত ছিল না। একজন স্বর্ণশিখরে ও অপরজন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। এছাড়াও, দুইটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০০২ সালে সঞ্জয় দত্ত ও সুনীল শেঠি’র সাথে ‘অমরনাথ’ ও সতীর্থ ক্রিকেটার অজয় জাদেজা ও সতীশ শাহের সাথে ‘পল পল দিল কে সাথ’ চলচ্চিত্রে অংশ নেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ তারিখে আন্দ্রিয়া হিউইটের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। ৮ জুন, ২০১৪ তারিখে তাঁদের সন্তান জিসাসের জন্মদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশুদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

Similar Posts

  • |

    জর্জ মাডি

    ২৬ নভেম্বর, ১৯১৫ তারিখে জ্যামাইকার স্পেনিশ টাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫১-৫২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে…

  • |

    ভিক স্টলমেয়ার

    ২৪ জানুয়ারি, ১৯১৬ তারিখে ত্রিনিদাদের সান্তা ক্রুজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত…

  • | |

    ফ্রেড প্রাইস

    ২৫ এপ্রিল, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। খাঁটিমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • | | |

    হ্যারি কেভ

    ১০ অক্টোবর, ১৯২২ তারিখে ওয়াঙ্গানুইয়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। নিউজিল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইন-সুইঙ্গার ও লেগ কাটারে সবিশেষ পারদর্শীতা দেখান। দীর্ঘ সময় ধরে নিখুঁতমানের বোলিং করতেন। ব্যাট হাতে রোমাঞ্চপূর্ণ খেলা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে উপহার দিলেও টেস্ট…

  • | |

    সাকিব আল হাসান

    ২৪ মার্চ, ১৯৮৭ তারিখে যশোরের মাগুড়ায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় রাখছেন। বাংলাদেশ দলের সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। খন্দকার মাসরুর রেজা ও শিরিন রেজা দম্পতির সন্তান তিনি। ২০০৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান…

  • |

    নানা জোশী

    ২৭ অক্টোবর, ১৯২৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যাট হাতে খাঁটিমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর…