|

নয়ন মোঙ্গিয়া

১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে গুজরাতের বরোদায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৬৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

এমএস ধোনি’র পূর্বে ভারতের উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অন্যতম শীর্ষ পর্যায়ের উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। তৎকালে কেবলমাত্র উইকেট-রক্ষণে নিয়োজিত খেলোয়াড়দের মধ্যে নিচেরসারিতে চাতুর্যতাহীন অবস্থায় রান সংগ্রহ করে সকলের নজর আকর্ষণ করেছিলেন। অধিকাংশ সময়েই নিচেরদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে দলের শেষ আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

পাঁচজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে একই খেলায় পেস ও স্পিন বোলিং করেছেন। তবে, উইকেট-রক্ষণেই দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকে অনিল কুম্বলে’র দ্রুত উত্থানপর্বে তিনি গ্লাভস হাতে নিয়ে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনালগ্নে বরোদা দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ঐ একই দলে সাবেক উইকেট-রক্ষক কিরণ মোরে’র অংশগ্রহণ ছিল। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছে তিনি তেমন সুনজরে ছিলেন। কেবলমাত্র কিরণ মোরে’র জাতীয় দলে অংশগ্রহণের ফলেই খেলার সুযোগ পেতেন। এক পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরতে সক্ষম হন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৯০ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৯৪ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৪৪ টেস্ট ও ১৪০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৮ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪৪ রান তুলে অনিল কুম্বলে’র অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীতে যুক্ত থেকে ভারতের ইনিংস ও ১১৯ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন এবং তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান। একই সফরের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে রাজকোটে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন। এ মৌসুমে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৯ মার্চ, ১৯৯৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ৩৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। অভিষেকধারী স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের অসাধারণ সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

নিজের সময়কালে সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা লাভ করতে না পারলেও নিচেরসারিতে দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে স্মরণীয় করে রাখেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। দলীয় ব্যবস্থাপনায় তাঁকে ইনিংস উদ্বোধনে খেলার জন্যে প্রস্তাব রাখলে ১৫২ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন ও দলের বিজয়ে বীরোচিত ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১১ মার্চ, ২০০১ তারিখে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তিনটি ক্যাচ গ্ল্যাভসবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ২ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। বেশ আলোচিত ঐ টেস্টে ভিভিএস লক্ষ্মণের অসামান্য দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ফলো-অনের কবলে পড়েও ১৭১ রানে জয়লাভ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে এক শতক সহযোগে ২৪.০৩ গড়ে ১৪৪২ রান তুলেন। পাশাপাশি উইকেট-রক্ষণে থেকে ৯৯ ক্যাচ ও ৮ স্ট্যাম্পিং করেন। ১৯৯০ সালের ইংল্যান্ড সফরে খেলার তেমন সুযোগ না পেলেও ইংরেজ উইকেট-রক্ষক অ্যালান নটের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান। তিনি ২২ বছর বয়সী নয়ন মোঙ্গিয়াকে সহজাত উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেন। ১৯৯৪ সালের পূর্ব-পর্যন্ত কিরণ মোরের সহকারী হিসেবে রয়ে যান।

নিচেরসারিতে দারুণ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দলের অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। এক পর্যায়ে শীর্ষসারিতে শচীন তেন্ডুলকরের সাথে খেলার সুযোগ পান। দলে গতিশীলতা আনয়ণে অনুকূল প্রভাব ফেলেন। ব্যাটিংয়ের সাথে অনিল কুম্বলে’র স্পিন বোলিং মোকাবেলায়ও অগ্রসর হন।

ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেয়ার পর অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে থাইল্যান্ড ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে কোচিং করান। এছাড়াও, স্টার নিউজ ও এনডিটিভিতে ক্রিকেট বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তনু মোঙ্গিয়া নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • |

    জিম স্লাইট

    ২০ অক্টোবর, ১৮৫৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার অ্যাশবি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৮০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৮৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৮০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ…

  • | |

    মাইকেল স্লেটার

    ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়াগা ওয়াগায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ‘স্ল্যাটস’ ডাকনামে পরিচিত মাইকেল স্ল্যাটার আগ্রাসী ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে সম্যক পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাঁর পরিবার ক্রিকেটের সাথে জড়িত ছিল। ফলশ্রুতিতে, খুব ছোটবেলা থেকেই এ খেলায়…

  • | | |

    পার্সি শারওয়েল

    ১৭ আগস্ট, ১৮৮০ তারিখে নাটালের ইসিপিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হতেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নেতৃত্বে ছিলেন। নাটালে জন্মগ্রহণ করলেও ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তাঁর ক্রিকেটে উত্তরণ ঘটে। কর্নওয়ালের পক্ষে মাইনর কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নেন। এক পর্যায়ে দেশে ফিরে আসেন ও খনিজ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন।…

  • | | |

    মাইকেল ক্লার্ক

    ২ এপ্রিল, ১৯৮১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের লিভারপুল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। লেস ক্লার্ক ও ডেবি ক্লার্ক দম্পতির সন্তান। ‘পাপ’ কিংবা ‘ক্লার্কি’ ডাকনামে ভূষিত…

  • | |

    ড্যারেন লেহম্যান

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার গলার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘বুফ’ ডাকনামে ভূষিত ড্যারেন লেহম্যান ১.৭৬ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া…

  • | |

    গ্যারি কার্স্টেন

    ২৩ নভেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রন্ডেবশ বিএইচএসে অধ্যয়ন করেন। এরপর, কেপটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম…