২৫ এপ্রিল, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
খাঁটিমানসম্পন্ন মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। এ সময়ে মিডলসেক্সের পক্ষে ৩৮২ খেলায় অংশ নেন। কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবে কখনোবা ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছিলেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ দলে অন্তর্ভূক্তির প্রশ্নে জর্জ ডাকওয়ার্থ ও লেসলি অ্যামিসের সাথে তাঁর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল।
একবার এক মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ১৯৩৪ সালে ২৫.৯৬ গড়ে ১২৯৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮.০৮ গড়ে তিন শতক সহযোগে ৮৩০০ রান তুলেন। তন্মধ্যে, একই খেলায় দুইটি শতকের দোরগোড়ায় ছিলেন। ১৯৩৪ সালে লর্ডসে কেন্টের বিপক্ষে ৯২ ও ১০৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এক বছর পূর্বে ডাডলিতে ওরচেস্টারশায়ারের বোলিং আক্রমণ প্রতিহত করে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১১ রান করেন। তন্মধ্যে, প্যাটসি হেনড্রেনের (৩০১*) সাথে পঞ্চম উইকেটে ৩৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন।
উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ৬২৬ ক্যাচ ও ৩০১টি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ১৯৩৭ সালে লর্ডসে ইয়র্কশায়ারের প্রথম ইনিংসে সাতটি ক্যাচ নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। প্রচলিত রয়েছে যে, ঐ খেলা শেষে জনৈক ভদ্রমহিলা স্ট্যাম্পে তাঁর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করতে আসেন। ‘আপনার ভূমিকায় আমি অভিভূত। আমি বারান্দা থেকে প্রায় পড়ে গিয়েছিলাম।’ এর জবাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘যদি আপনি তা করতেন, তাহলে আমি নিশ্চয়ই কোলে তুলে নিতাম।’
১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মাত্র ০ ও ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ৫ উইকেটে জয়লাভ করে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এমসিসি দলের সাথে দুইবার বিদেশ সফরে যান। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ফ্রেড ক্যালথর্পের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে আঘাতপ্রাপ্ত মেজর আর. টি. স্ট্যানিফোর্থের পরিবর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে স্যার থিওডর ব্রিঙ্কম্যানের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬৭ সময়কালে ৮টি টেস্ট, ৩৩টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট ও ৬টি লিস্ট-এ খেলা পরিচালনা করেছেন। ১৯৫২ সালে ওভালে ভিএস হাজারের নেতৃত্বাধীন সফররত ভারতীয় একাদশের বিপক্ষে সারের টনি লকের বল ছোঁড়ার বিষয়ে নো-বল ঘোষণা করে বেশ আলোচিত হন। ১৩ জানুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে মিডলসেক্সের হেন্ডন এলাকার হাসপাতালে ৬৬ বছর ২৬৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
