১৪ মার্চ, ১৯৬৫ তারিখে এসেক্সের স্টেবিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, চমৎকার ফিল্ডিং করতেন। ১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে তাঁর জন্ম। জ্যেষ্ঠ তিন ভ্রাতা ক্রিকেট খেলতেন। ফেলস্টেড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন ও সেখানে ক্রিকেট শিখেন। বিদ্যালয় জীবন শেষ করে ১৯৮৩ সালে এসেক্সে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেটার হিসেবে যুক্ত হন। এসেক্সে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও হ্যাম্পশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে বোল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে দুই মৌসুম হ্যাম্পশায়ার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দুই মেয়াদের এসেক্সের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ ও ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে দলের সদস্য ছিলেন। গ্রাহাম গুচের অবসর গ্রহণের পর অধিনায়কত্ব করেন। তবে, ১৯৯৪ সালে এসেক্স ত্যাগ করে হ্যাম্পশায়ারে যুক্ত হন। ২০০২ সালে চেমসফোর্ডে ফিরে আসার পর এসেক্সের দ্বিতীয় একাদশকে নেতৃত্ব দেন। খুবই ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সুবাদে তাঁকে প্রথম একাদশে ফিরিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি বোলার হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতেন। ২০০২ সালে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ মৌসুমে ৪৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষ উইকেট সংগ্রাহক হন। এছাড়াও, ৩৫ গড়ে ৫৬২ রান তুলেছিলেন।
১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ আগস্ট, ১৯৮৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত শক্তিধর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অ্যালান ঈগলসডেনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে দুই ইনিংস থেকে ২৫ ও ২১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ডিন জোন্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। এরফলে, ঐ মৌসুমের শীতকালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে তাঁকে দলের সদস্যরূপে রাখা হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
এরপর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান থাকলেও আশাতীত ভালো না করায় তাঁকে আর দলে ফিরিয়ে আনা হয়নি। এমনকি ইংল্যান্ড ‘এ’ দলে ভালো খেললেও তাঁকে টেস্ট দলে রাখা হয়নি।
জুন, ২০০৪ সালে এমসিসি’র ক্রিকেট প্রধান হিসেবে তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এর অব্যবহিত পরই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এমসিসি’র সহকারী সম্পাদকের (ক্রিকেট) দায়িত্ব পালন শেষে ১৯ জুলাই, ২০২১ তারিখে চেমসফোর্ডভিত্তিক এসেক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে জেমি কক্সের স্থলাভিষিক্ত হন। এছাড়াও, দ্য হান্ড্রেড প্রতিযোগিতায় লন্ডন স্পিরিটের মহাব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছেন।
