১৩ মার্চ, ১৮৫৯ তারিখে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ইভো ব্লাই চিম প্রিপারেটরি স্কুলে পড়াশুনো করেছেন। এটন কলেজে অধ্যয়নকালীন ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত প্রথম একাদশে ছিলেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ট্রিনিটি কলেজের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ১৮৭৭ থেকে ১৮৮১ সময়কালে পড়াশুনো করেছেন। ১৮৮২ সালে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৮৭ থেকে ১৮৮১ সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে র্যাকেট ও টেনিসসহ ক্রিকেটে চারবার ব্লুধারী হন। ১৮৮১ সালে তাঁর স্বাস্থ্য দূর্বল হয়ে পড়ে। তাসত্ত্বেও, তিনটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৮৮০ সালে নিজের স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। জেন্টলম্যানের সদস্যরূপে প্লেয়ার্সের বিপক্ষে ৩০.৬৯ গড়ে ১০১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাশেজের উৎপত্তিতে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ষষ্ঠ আর্ল জন স্টুয়ার্ট ব্লাই ও লেডি হ্যারিয়েট মেরি পেলহামের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন।
১৮৭৭ থেকে ১৮৮৩ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তবে, দূর্বল স্বাস্থ্যের কারণে খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অনেকটা আগেভাগে সড়ে দাঁড়ান। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।
১৮৮২ থেকে ১৮৮৩ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৮২-৮৩ মৌসুমে এমসিসি দলের অস্ট্রেলিয়ার সফরে প্রথম অ্যাশেজ সিরিজে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ৩০ ডিসেম্বর, ১৮৮২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চার্লস লেসলি, এডমন্ড টাইলকোট, জর্জ স্টাড, জর্জ ভার্নন ও ওয়াল্টার রিডের সাথে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি বল হাতে ১৯ ও ১০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৪ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১৯০০ সালে ডার্নলির অষ্টম আর্ল হিসেবে মনোনীত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবে ১৮৯২ ও ১৯০২ সালে সভাপতি হন। ১৯০০ সালে এমসিসি’র সভাপতি হিসেবে স্বীয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯০৫ সালে আয়ারল্যান্ডের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন ও কেন্টের ডেপুটি লেফট্যানেন্ট এবং অল্ডারম্যান হন।
১০ এপ্রিল, ১৯২৭ তারিখে কেন্টের পাকল হিল হাউজ এলাকায় অবস্থিত নিজ গৃহে শান্তিপূর্ণভাবে ঘুমে হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৮ বছর ২৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। চারদিন পর কোবহাম গীর্জায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ফ্লোরেন্স ডার্নলি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ১৯১৯ সালে ডিবিই পদবীধারী ডার্নলি কাউন্টেজ স্বীয় স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর দেহাবশেষ লর্ডস সভায় হস্তান্তর করেন। মৃত্যু পরবর্তীকালে ১৫ নভেম্বর, ১৯২৭ তারিখে তিনি £২৩৭,০৩০ পাউন্ড-স্টার্লিং রেখে যান।
