১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮ তারিখে পাঞ্জাবের মুলতানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
কৌণিকভাবে ও ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিংয়ে সক্ষম। তবে, তিনি মুলতঃ সুইংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, মুলতান ও সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্স লিমিটেডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স, মুলতান টাইগার্স, পেশাওয়ার জালমি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ১ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে মুলতানে অনুষ্ঠিত মুলতান বনাম হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
কলেজে অধ্যয়নকালে প্রথম বছরেই ক্রিকেটের দিকে অধিক ঝুঁকে পড়েন। মুলতান ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে মুলতানের পক্ষে খেলার পর পরবর্তী মৌসুমেই সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্সে চলে যান। ২০১১-১২ মৌসুমে খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ ও বালুচিস্তানের পক্ষে বেশ দ্যূতি ছড়ান। সব মিলিয়ে ৬১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে পাকিস্তানের ওডিআই দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১৩ থেকে ২০১৮ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ১৪টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শেষ মুহূর্তে খেলার সুযোগ পান। আঘাতপ্রাপ্ত জুনায়েদ খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। ঐ সময়ে তিনি মাত্র একটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১২ সালে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৯ জুন, ২০১২ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সূচনা ঘটান। ঐ খেলায় ০/৩৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।
পূর্বতন বছরে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দূর্দান্ত খেলেছিলেন ও এর স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নাসির জামশেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বেশ ভালোমানের বোলিং করলেও কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন। ০/৫৬ ও ০/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২১১ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
তবে, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে প্রোটীয়দের বিষফোঁড়ায় পরিণত হন। হাশিম আমলা ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়ও তাঁর পেস ও বাউন্স মোকাবেলায় হিমশিম খান। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে এএন পিটারসনকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ০/৪৪। এ পর্যায়ে টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১২৭ পান। এছাড়াও, ০* ও ২২ রন সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কাইল অ্যাবটের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৮ রানে পরাজিত হলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
দুবাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে দুইবার চার-উইকেট লাভ করেছিলেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাত উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, গ্রুপ পর্বের খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩/৪০ লাভ করেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ডি/এল পদ্ধতিতে জয়লাভে সক্ষম হয়।
২০১৬-১৭ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৬২ ও ০/২৪ বোলিংবিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়ানৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৮ সালে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে আয়ারল্যান্ড গমন করেন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একমাত্র টেস্টটিতে ০/১৮ ও ০/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কেভিন ও’ব্রায়ানের অসামান্য ব্যাটিং নৈপুণ্য স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।
