২৮ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
টেপ-বল খেলে নিজেকে ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে তুলেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে বালুচিস্তান, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, পাঞ্জাব, সিন্ধু ও পাকিস্তান সুই গ্যাস কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, করাচী ব্লুজ, করাচী ডলফিন্স, করাচী রিজিওন ব্লুজ, করাচী হোয়াইটস, করাচী জেব্রাস, খাইবার-পাখতুনখোয়া ফাইটার্স, মুলতান সুলতান্স, নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স প্যান্থার্স, কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স, সিন্ধু ডলফিন্স ও সিন্ধু নাইটসের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৭-০৮ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ২১ অক্টোবর, ২০০৭ তারিখে হায়দ্রাবাদের সিন্ধুতে অনুষ্ঠিত হায়দ্রাবাদ বনাম করাচী হোয়াইটসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। প্রথম মৌসুমেই নিজেকে সকলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেন। দ্বি-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। অল্পের জন্যে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। তবে, দুই মৌসুম পরই কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হতে পেরেছিলেন। ১২ খেলা থেকে ৪৯.২৬ গড়ে ১২৪৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।
২০০৮-০৯ মৌসুমে সীমিত-ওভারের খেলায় দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। সাত খেলায় ৫৪.১৪ গড়ে ৩৭৯ রান তুলেন। জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর মাঝে অমিত সম্ভাবনা খুঁজে পান। অতঃপর, ২০১০ সালের এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার লক্ষ্যে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
২০১০ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়। ২১ জুন, ২০১০ তারিখে ডাম্বুলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে যান। ওডিআইয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব বিস্তার করেন। ঐ বছরের শেষদিকে টেস্ট দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০১০-১১ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২০ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। তানভীর আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক ঘটা ঐ টেস্টে ৬১ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।
একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৭ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৬২ রানে পৌঁছানোকালে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, আব্দুর রেহমানের অনবদ্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর থেকে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রমাগত সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। মাঝারিসারিতে স্থিরতা আনয়ণে তৎপর হন। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। তবে, ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও ভালো খেলা উপহারে সচেষ্ট হন। কেপটাউনের বোলিং উপযোগী পিচে মনোরম শতরানের ইনিংস খেলেন। দলীয় সংগ্রহ ৩৩/৪ থাকা অবস্থায় ইউনুস খানের সাথে ২১৯ রানের জুটি গড়েন। ডেল স্টেইন, ভার্নন ফিল্যান্ডার ও মরনে মরকেলের ন্যায় বোলারদের রুখে দিয়ে ১১১ রান তুলেন।
২০১২ সালে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে পল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৭৫ ও ১০০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর ব্যাটিং দৃঢ়তায় টেস্টটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৬ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৩০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১১ ও ১৩৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, মার্ক ক্রেগের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে নিউজিল্যান্ড দল ইনিংস ও ৮০ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১২ ও ১১২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ডিমুথ করুণারত্নে’র দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৬৮ রানে পরাজয়বরণ করে ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৮-১৯ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার উদ্দেশ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৩ ও ৪৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এজাজ প্যাটেলের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে পাকিস্তান দল ৪ রানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০২০ সালে আজহার আলী’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ আগস্ট, ২০২০ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাক ক্রলি’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
