| |

স্বরাজ বাহুতুলে

৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্র, আসাম, মহারাষ্ট্র, বোম্বে ও বিদর্ভের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, সারে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৯১-৯২ মৌসুমে বোম্বের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি কার্যকর লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। মুম্বইয়ের পক্ষে নিচেরসারিতে দারুণ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রাখতেন। তবে, এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলে ধরতে পারেননি।

১৭ বছর বয়সে প্রায় মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন। বোম্বের মেরিন ড্রাইভে মারুতি জিপসিতে আরোহণকালীন বেস্ট ভ্যান আঘাত হানে। বিখ্যাত গায়ক দম্পতি জগজিৎ সিং ও চিত্রা সিংয়ের পুত্র বিবেক সিং চালকের আসনে থেকে নিহত হন। অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে নিবীড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। আরেক বালক রাহুল মজুমদারের ন্যায় তিনিও গুরুতর জখম হন ও হাঁড় ভেঙ্গে যায়। এ পর্যায়ে এসে কেউই হয়তোবা আর খেলোয়াড়ী জীবনে মনোনিবেশ ঘটাতে চাইবেন না। বিসিএ-মাফতলাল প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্রাঙ্ক টাইসনের পরিচালনায় প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। তবে, ২০ মিটারের দূরত্বও অতিক্রম করতেন না। তাসত্ত্বেও সেখানে তিনি রয়ে যান।

এক বছর অতিবাহিত হবার পরই রঞ্জী ট্রফিতে খেলেন। সুদৃঢ় মানসিক গড়নের কারণে ১৮৮ খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ৩২ গড়ে ৬১৭৬ রান ও ২৬ গড়ে ৬৩০ উইকেট দখল করেছিলেন। ছয়বার রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, ২০০৩-০৪ মৌসুমে অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

বিদ্যালয় ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকর ও বিনোদ কাম্বলি’র ন্যায় খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলেছিলেন। তাঁদের সংগৃহীত রেকর্ডসংখ্যক ৬৬৪ রানের জুটির বিপক্ষে অন্যতম বোলার ছিলেন। তাসত্ত্বেও, ঐ দুজনের সাথে তিনিও মুম্বই দলে একত্রে খেলেন। ১৫ বছর ঐ দলটির সাথে খেলার পর ২০০৫ সালে মহারাষ্ট্র দলে চলে যান। ২০০৮ সালে পুণরায় মুম্বই দলে ফিরে আসেন ও ঐ বছরের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে বিদর্ভ দলের সদস্য হন।

ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের ইরানী ট্রফিতে দূর্দান্ত খেলেন। অনিল কুম্বলে ৪/১৪০ ও ৭/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লেও অপর খেলায় ৫/৭৯ ও ৮/৭১ নিয়ে তাঁকে ছাপিয়ে যান। এরফলে, প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইরানী ট্রফিতে ১৩ উইকেট দখল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা পান। কিন্তু, ওডিআইয়ে দূর্বলমানের ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে দল থেকে বাদ পড়েন। তিন বছর বাদে অনিল কুম্বলে’র আঘাতের কারণে আরও একবার খেলার সুযোগ লাভ করেন।

২০০০-০১ মৌসুমে পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে হ্যাট্রিক লাভ করেন। পরবর্তী শীতকালে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন শক্তিধর অস্ট্রেলীয় একাদশের মুখোমুখি হন। ৪/৩৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে মুম্বই দলকে প্রায় জয়ের কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে যান। মাইকেল স্লেটার, রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও জাস্টিন ল্যাঙ্গারের উইকেট পান। ঐ মৌসুমের শীতকালে তাঁকে টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়।

১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন।

২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। সমীর দীঘে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কিন্তু, অভিষেক টেস্টটিতে তেমন সফলতার সন্ধান না পেলেও মার্ক ওয়াহজাস্টিন ল্যাঙ্গারকে বিদেয় করেন এবং প্রথম ইনিংসে ২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল নাটকীয়ভাবে দুই উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

ঐ বছরের শেষদিকে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে ভারত দলে রাখা হয়। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে পুণরায় খেলার সুযোগ পান। বেশ রান খরচ করে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৭৭ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তাঁর পরিবর্তে হরভজন সিং ভারতের দ্বিতীয় স্পিনারের মর্যাদা পান ও মুরালি কার্তিককে খেলানো হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পরও মুম্বইয়ের পক্ষে খেলা চলমান রাখেন। এমসিএ’র সাথে আর্থিক বিরোধের জের ধরে মহারাষ্ট্রের দিকে ধাবিত হন। পিতা বসন্ত ঐ দলে খেলতেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ওয়াংখেড়েতে মুম্বইয়ের বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরেন। অপরাজিত ৪৫ ও ২৬ রানের পাশাপাশি ৪/৫৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

দূর্ভাগ্যজনকভাবে সমসাময়িক অনিল কুম্বলে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও তিনি মাত্র দশবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শুধ তাই নয়; ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে নরেন্দ্র হিরবাণী দূর্দান্ত খেললে তাঁকে বেশ পিছিয়ে দেয়। এছাড়াও, টেস্টগুলো থেকে তিনি মাত্র ৩ উইকেট ও ওডিআই থেকে ২ উইকেট দখল করেছিলেন।

জানুয়ারি, ২০১৩ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর, কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। জুন, ২০১৪ সালে রঞ্জী ট্রফিতে অংশগ্রহণকারী কেরালা দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। মুম্বইয়ের কোচের দায়িত্ব পালনের পর বিজয় হাজারে ট্রফি ও সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে বিদর্ভের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালে বিসিসিআইয়ের এককালীন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের আওতায় ₹৩.৫ মিলিয়ন রূপী লাভ করেন।

Similar Posts

  • | |

    জ্যাক নিউম্যান

    ৩ জুলাই, ১৯০২ তারিখে নেলসনের ব্রাইটওয়াটার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। নেলসন্স কলেজে বিদ্যালয় জীবন কাটান। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    থারিন্ডু রত্নায়েকে

    ১৮ এপ্রিল, ১৯৯৬ তারিখে মারাভিলা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী তিনি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। মাউন্ট লাভিনিয়াভিত্তিক সেন্ট থমাস কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব,…

  • | |

    কেনরয় পিটার্স

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সেন্ট ভিনসেন্টে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০১০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। পাড়ার ক্রিকেটে অংশ নিতেন। ২০০০ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে উইন্ডওয়ার্ড…

  • | | |

    বয়েড র‌্যাঙ্কিন

    ৫ জুলাই, ১৯৮৪ তারিখে লন্ডনডেরি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। ‘বয়ডো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। স্ট্রাব্যান গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে হার্পার অ্যাডামস ইউনিভার্সিটি কলেজে পড়াশুনো করেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে ২০১৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী…

  • |

    হার্ব ম্যাকগির

    ৫ নভেম্বর, ১৮৯১ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯১৩-১৪ মৌসুম থেকে ১৯৩২-৩৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ওয়েলিংটনের অন্যতম প্রসিদ্ধ অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯১৪ থেকে ১৯৩২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৮.৭১ গড়ে ৩৯৯২ রান তুলেন। এছাড়াও, ২৭.০৪ গড়ে ২৩৯…

  • |

    আলফ্রেড আর্চার

    ৬ ডিসেম্বর, ১৮৭১ তারিখে সারের রিচমন্ড-আপোন-টেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। হেইলিবারিভিত্তিক বিদ্যালয় দলের প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পাননি। তবে, ওরচেস্টারশায়ার কোল্টসের পক্ষে এক খেলায় অংশগ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হুবার্টের তুলনায় ভালো খেলতেন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ১৯০৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…